হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকলে ‘নজিরবিহীন’ পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের সেনাবাহিনী। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল প্রেসটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির এক উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা এই সতর্কবার্তা দেন।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি এই অবরোধ প্রত্যাহার না করে, তাহলে তেহরান কঠোর জবাব দিতে বাধ্য হবে। তার ভাষায়, ইরান আর কোনো দুর্বল বা পূর্বানুমানযোগ্য পক্ষ নয়—সাম্প্রতিক সংঘাতগুলোতে তা প্রমাণিত হয়েছে।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, এতদিন ইরান কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ উন্মুক্ত রেখেছে এবং ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেছে। তাদের লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র যেন ইরানের শর্তগুলো বিবেচনা করে একটি স্থায়ী সমঝোতার পথে অগ্রসর হয়। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি ওয়াশিংটন একগুঁয়ে অবস্থান বজায় রাখে এবং প্রস্তাবগুলো প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে ইরান ভিন্নধর্মী ও কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হওয়ায় এখানে যেকোনো উত্তেজনা বৈশ্বিক বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের জ্বালানি তেল পরিবাহিত হয়, ফলে এর নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিস্থিতিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, মোজতবা খামেনি প্রশাসন যদি কোনো চুক্তিতে রাজি না হয়, তাহলে হরমুজ প্রণালি ও ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকবে।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, এই নৌ-অবরোধ যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় কৌশলগত সাফল্য। তার মতে, এর মাধ্যমে ইরানের ওপর চাপ তৈরি করা সম্ভব হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখছে। তিনি তেহরানকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। একদিকে ইরান কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিচ্ছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ আরও জোরদার করার অবস্থানে রয়েছে। এতে করে কূটনৈতিক সমাধানের পথ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালির মতো কৌশলগত এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার ওপরও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ফলে দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, নৌ-অবরোধ ইস্যুকে কেন্দ্র করে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা এখন আরও গভীর সংকটের দিকে যাচ্ছে, যেখানে উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে।