ভূমধ্যসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় গাজাগামী মানবিক সহায়তাবাহী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার নৌবহরে আবারও অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। এই অভিযানে একাধিক নৌযান আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আয়োজকরা ও ইসরায়েলি গণমাধ্যম।
ফ্লোটিলার আয়োজকদের দাবি, গাজায় ফিলিস্তিনিদের জন্য মানবিক ত্রাণ ও সহায়তা নিয়ে যাত্রা করা নৌবহরটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থানকালে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ড্রোন ও যোগাযোগব্যবস্থা বিঘ্নিত করার প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি ও চাপের মুখে পড়ে। পরে সশস্ত্র নৌবাহিনীর একটি দল সেখানে অভিযান চালায়।
গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা এক বিবৃতিতে জানায়, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর স্পিডবোটগুলো নৌবহরের কাছাকাছি এসে নিজেদের পরিচয় দেয় এবং নৌযানে থাকা সবাইকে ডেকে সামনে আসতে বলে। এরপর তাদের হাতে ও হাঁটুতে ভর দিয়ে নির্দিষ্ট অবস্থানে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়।
ফ্লোটিলার পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থানরত এই নৌবহরকে ইসরায়েলি বাহিনী অবৈধভাবে ঘিরে ফেলে এবং অপহরণ ও সহিংসতার হুমকি দেয়। তাদের দাবি, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অন্তত ১১টি নৌযানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
একই সঙ্গে ইসরায়েলি গণমাধ্যমের বরাতে জানানো হয়, ইতোমধ্যে সাতটি নৌযান আটক করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত করা যায়নি।
ফ্লোটিলার আয়োজকরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের দাবি, গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর এই উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের পরিপন্থী।
এদিকে এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় এমন সামরিক অভিযান ও মানবিক সহায়তা মিশনে বাধা সৃষ্টি করা উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।
ফ্লোটিলার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের মিশন সম্পূর্ণ মানবিক এবং গাজার সাধারণ মানুষের জন্য জরুরি ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়াই ছিল মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু সামরিক হস্তক্ষেপের কারণে সেই কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।
বর্তমানে আটক নৌযান ও নিখোঁজ যোগাযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।