ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসই গড়বে সুস্থ প্রজন্ম: মীর শাহে আলম নাটোরে প্রবাসীর শপিং মলে হামলা ও লুটপাট, ৫ কোটি টাকার ক্ষতি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় না বিএনপি সরকার: প্রতিমন্ত্রী তিন নিরাপত্তারক্ষীসহ অপহৃত কালাতের রাজপুত্র শাহজাদা আহমেদজাই 'আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স' শব্দ নিষিদ্ধের ঘোষণা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নারী পরীক্ষকের সামনে পুরুষরা কম ব্যথা অনুভব করেন: নতুন গবেষণা উইন্ডিজের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে নেই মুশফিক! কাঁদুনে গ্যাসে ফরাসি বিক্ষোভকারীর মৃত্যু, পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অধ্যায় শেষ, দাবি বিরোধী নেতা আইজেনকোটের ফেনারবাখচেকে হারিয়ে ইউরোলিগে ভ্যালেন্সিয়ার দুর্দান্ত জয়

দিনাজপুরে এক মাঠে ৫৪ জাতের ধানের প্রদর্শনী


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ১১:৪৬ এএম

দিনাজপুরে কৃষি গবেষণার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে এক অভিনব উদ্যোগ—একই মাঠে ৫৪ জাতের ধান প্রদর্শন। কৃষকদের উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত সম্পর্কে ধারণা দিতে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের আঞ্চলিক কার্যালয়ের উদ্যোগে সদর উপজেলার কাউগা এলাকায় এই ‘রাইস গার্ডেন’ স্থাপন করা হয়েছে।

এই প্রদর্শনী মাঠে ২০২৫–২৬ মৌসুমে উপযোগী বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত ৫৪টি ধানের জাত পাশাপাশি রোপণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষকরা একসঙ্গে বিভিন্ন জাতের ধানের বৃদ্ধি, গাছের উচ্চতা, শিষের গঠন, রোগবালাই সহনশীলতা, ফলনক্ষমতা এবং গুণগত বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে পারছেন। ফলে স্থানীয় পরিবেশ উপযোগী উন্নত জাত নির্বাচন করা কৃষকদের জন্য আরও সহজ হয়ে উঠেছে।

কৃষি গবেষণা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই রাইস গার্ডেন মূলত একটি জীবন্ত গবেষণাগার, যেখানে একসঙ্গে বহু জাতের ধান মাঠ পর্যায়ে পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করা সম্ভব। ‘স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বিদ্যমান গবেষণাগার উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রায় ১৫টি প্রযুক্তি গ্রামে এ ধরনের রাইস গার্ডেন স্থাপন করা হয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক ড. মো. আনোয়ার হোসেন জানান, কৃষকদের কাছে আধুনিক ও উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত সহজভাবে পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে প্রযুক্তি ব্যবহার ও নতুন জাত সম্পর্কে বাস্তব ধারণা তৈরি করাও এর উদ্দেশ্য। তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে আউশ ও আমন মৌসুমেও এ ধরনের প্রদর্শনী কার্যক্রম চালানো হবে।

দিনাজপুর অঞ্চলে প্রথমবারের মতো এমন উদ্যোগ নেওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। প্রতিদিনই শতাধিক কৃষক ও আগ্রহী দর্শনার্থী রাইস গার্ডেন পরিদর্শন করছেন এবং বিভিন্ন জাত সম্পর্কে সরাসরি ধারণা নিচ্ছেন।

স্থানীয় কৃষক মো. আব্দুল আলিম বলেন, “এ ধরনের প্রদর্শনী আগে কখনো দেখিনি। এখানে এসে বুঝতে পারছি কোন জাতের ধান বেশি ফলন দেয় এবং কোনটি আমাদের জমির জন্য ভালো হবে। আমি আগামী মৌসুমে এখান থেকে দেখে ধান নির্বাচন করব।”

বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সৈয়দ জাহিদ হাসান জানান, এই প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের আধুনিক ধান চাষ প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করানো হচ্ছে। একই সঙ্গে নতুন জাতের ব্যবহার ও উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।

গবেষণা সূত্রে জানা গেছে, বোরো মৌসুমে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট মোট ৬১টি ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে। এর মধ্যে দিনাজপুরের এই রাইস গার্ডেনে ৫৪টি জাত প্রদর্শন করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের উদ্যোগ কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং কৃষকদের ঝুঁকি কমিয়ে লাভজনক চাষে সহায়তা করবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর