দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর বালিকা বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ভুয়া শিক্ষক নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে দীর্ঘ ২০ বছর চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় শিক্ষা মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষিকা রেবেকা সুলতানা জাল নিবন্ধন সনদের মাধ্যমে নিয়োগ পান এবং দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ২০০৬ সালে তিনি ওই বিদ্যালয়ে যোগদান করেন বলে বিদ্যালয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
২০১৯ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের এক পরিদর্শনে তার সনদ জাল বলে ধরা পড়ে। পরিদর্শক টুটুল কুমার নাগের প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, শিক্ষিকার শিক্ষক নিবন্ধন সনদটি ভুয়া। তবে ওই প্রতিবেদনের পরও দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে ২০২২ সালে শিক্ষিকা রেবেকা সুলতানার সনদ যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে এনটিআরসিএ বরাবর পত্র পাঠানো হয়। এর জবাবে এনটিআরসিএ জানায়, তার সনদটি সঠিক নয় এবং নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি। ফলে তিনি সরকারি বেতন-ভাতার জন্য প্রাপ্য নন বলে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া ২৩ সেপ্টেম্বর ২০০৬ থেকে ৩০ নভেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত সময়ে তার প্রাপ্ত মোট ১৪ লাখ ৪০ হাজার ৯০০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য বলেও জানানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট চিঠিতে।
অভিযুক্ত শিক্ষিকা রেবেকা সুলতানা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন এবং সনদও পেয়েছেন। অডিট প্রতিবেদনে কেন তার সনদকে জাল বলা হয়েছে, তা তার বোধগম্য নয়। বিষয়টি পরিষ্কার করতে তিনি পুনরায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছেন বলেও জানান।
বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ফজলুল হক বলেন, প্রাথমিকভাবে শিক্ষিকার নিবন্ধন সনদ জাল বা ভুয়া বলে প্রতীয়মান হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নবাবগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপক কুমার বনিক জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন। তবে তার দপ্তরে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নথি পৌঁছায়নি। তিনি বলেন, সাধারণত এ ধরনের নথি জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে আসে এবং পরে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে অনুলিপি দেওয়া হয়। বিস্তারিত জানার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিল্লুর রহমান বলেন, বিষয়টি ইতোমধ্যে তার নজরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে সঠিকভাবে তদন্ত করে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খন্দকার মোঃ আলাউদ্দীন আল আজাদ বলেন, অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বিধি মোতাবেক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় শিক্ষা প্রশাসনের ভূমিকা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে স্থানীয় মহলে।