ঈশ্বরদী(পাবনা)প্রতিনিধি
পাবনার ঈশ্বরদীতে মাদক ও মোবাইল আসক্তি থেকে যুব সমাজকে রক্ষা করতে খেলাধুলার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সাংবাদিক সোসাইটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সচিব ও ঈশ্বরদী উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি তৌহিদ আক্তার পান্না।
গতকাল বিকেলে পাকশীর ঐতিহাসিক রেলওয়ে ফুটবল মাঠে রেল শ্রমিক দলের সহযোগিতায় পাকশী ফুটবল ট্রেনিং সেন্টারের উদ্যোগে সিনিয়র ও জুনিয়র দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে আয়োজিত এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, “আজকের যুব সমাজ ধীরে ধীরে মাদক ও মোবাইল আসক্তির দিকে ঝুঁকে পড়ছে, যা ভবিষ্যতের জন্য বড় হুমকি। এই ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে থাকা যুব সমাজকে রক্ষা করতে হলে খেলাধুলা ও সুস্থ বিনোদনের বিকল্প নেই।”
তিনি আরও বলেন, নিয়মিত খেলাধুলা কেবল শারীরিক সক্ষমতাই বাড়ায় না, বরং তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও সামাজিক মূল্যবোধ গড়ে তোলে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের এএসআই হাফিজ এবং পাকশী রেলওয়ে শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক সুমন আলী। পাকশী রেলওয়ে শ্রমিকদলের সভাপতি সোহেল রানার সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন টিম ম্যানেজার আবির হোসেন, ট্রেনিং সেন্টারের কোচ নূর হোসেন, সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম কনক, সাধারণ সম্পাদক নূর হোসেন ভুটান, সাংবাদিক সাইদুল ইসলাম, ছাত্রদল নেতা আলমাস আলীসহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
খেলার শুরু থেকেই দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঘোষণা দেওয়া হয়, ম্যাচ শেষে জুনিয়র দলের বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হবে। এই ঘোষণায় খেলার উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়।
প্রথমার্ধের ১৫ মিনিটে সিনিয়র দলের আলিম প্রথম গোল করে দলকে এগিয়ে নেন। তবে মাত্র পাঁচ মিনিট পর, ২০ মিনিটের মাথায় জুনিয়র দলের স্টাইকার রাহুল একটি গোল করে খেলায় সমতা ফিরিয়ে আনেন। দর্শকনন্দিত এই ম্যাচে উভয় দলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হয়ে ওঠে।
দ্বিতীয়ার্ধের ৯ মিনিটে জুনিয়র দলের সিজান দ্বিতীয় গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে জুনিয়র দল জয়ী হয় এবং দর্শকদের মাঝে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।
ম্যাচ শেষে অতিথিবৃন্দ বিজয়ী দলের খেলোয়াড়দের হাতে পুরস্কারের অর্থ তুলে দেন। আয়োজকরা জানান, এ ধরনের নিয়মিত ক্রীড়া আয়োজন তরুণদের মাদক ও অনলাইন আসক্তি থেকে দূরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্থানীয়রা মনে করেন, নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজন বাড়ানো গেলে যুব সমাজকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা সম্ভব এবং সামাজিক অপরাধও অনেকাংশে কমে আসবে।