সাতক্ষীরার নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে মিজ কাউসার আজিজকে পদায়ন করেছে সরকার। তিনি বর্তমানে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে উপসচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন। নতুন দায়িত্বে তিনি সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ পদায়নের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, প্রশাসনিক রদবদলের অংশ হিসেবে তাকে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তিনি বিদায়ী জেলা প্রশাসক মিজ আফরোজা আখতারের স্থলাভিষিক্ত হবেন। মিজ আফরোজা আখতার দীর্ঘদিন সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে মিজ কাউসার আজিজ প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণের পর সাতক্ষীরার উন্নয়ন কার্যক্রম, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং জনসেবামূলক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, মিজ কাউসার আজিজ একজন অভিজ্ঞ প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেছেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে উপসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি নীতি প্রণয়ন ও প্রশাসনিক সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
জেলা প্রশাসক হিসেবে তার প্রধান চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে থাকবে সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী এলাকার নিরাপত্তা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলা এবং স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন।
স্থানীয় পর্যায়ে নতুন ডিসি নিয়োগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন সাধারণ মানুষ ও প্রশাসনিক মহল। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন নেতৃত্বে জেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং জনগণ আরও কার্যকর সেবা পাবে।
এদিকে বিদায়ী জেলা প্রশাসক মিজ আফরোজা আখতারের নেতৃত্বে সাতক্ষীরায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনসেবা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
নতুন জেলা প্রশাসক দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প, ভূমি ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সেবা উন্নয়ন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিশেষ গুরুত্ব দেবেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।
সাতক্ষীরা জেলা একটি সীমান্তবর্তী ও গুরুত্বপূর্ণ জেলা হওয়ায় এখানে প্রশাসনিক দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। ফলে নতুন ডিসির ওপর স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশাও অনেক বেশি।
সরকারের এই পদায়নের মাধ্যমে প্রশাসনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে এবং জেলা পর্যায়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরও বেগবান হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশা প্রকাশ করেছে।