ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান

ইরানে স্বল্পমেয়াদি ও শক্তিশালী হামলার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের


ইরানে স্বল্পমেয়াদি ও শক্তিশালী হামলার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৮:০৭ পিএম

ইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে দেশটিতে ‘স্বল্পমেয়াদি কিন্তু শক্তিশালী’ একগুচ্ছ হামলার পরিকল্পনা তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।

ওয়াশিংটন যখন তেহরানের সঙ্গে তার পারমাণবিক কর্মসূচি ও গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে বিবাদে জড়িয়েছে, তখন এমন পরিকল্পনার খবর সামনে এনেছে সংবাদমাধ্যম এক্সিওস।

বিবিসি বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, এ পরিকল্পনা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে একটি ‘উচ্চমানের প্রভাবশালী বিকল্প’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের তুলনায় সীমিত পরিসরের সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত।

ট্রাম্প এখনো এই পরিকল্পনার অনুমোদন দেননি। বরং তিনি ইরানের বিরুদ্ধে চলমান নৌ-অবরোধ ও অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখার দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। জনসমক্ষে তিনি একে ‘বোমার চেয়েও কার্যকর’ কৌশল বলে উল্লেখ করেছেন।

আরব সাগরে হরমুজ প্রণালির কাছে ‘এমভি ব্লু স্টার ৩’ নামে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে তল্লাশি চালাচ্ছেন মার্কিন নৌবাহিনীর সদস্যরা—এমন একটি চিত্রও সামনে এসেছে, যা চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

এক্সিওস ও বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, সেন্টকমের পরিকল্পনায় ইরানের তেল রপ্তানি স্থাপনা, সামরিক ঘাঁটি, কমান্ড সেন্টার এবং আঞ্চলিক মিলিশিয়া নেটওয়ার্ককে লক্ষ্যবস্তু করার প্রস্তাব রয়েছে। পরিকল্পনার উদ্দেশ্য হলো দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ না করে স্বল্প সময়ে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ঘটানো, যাতে তেহরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে চাপ সৃষ্টি করা যায়।

আরেকটি বিকল্প পরিকল্পনায় হরমুজ প্রণালির কিছু অংশে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার জন্য সম্ভাব্য স্থল অভিযান প্রয়োজন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ার পর এবং হরমুজ প্রণালি আংশিক খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের তিন স্তরের শান্তি প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাখ্যান করার পর এই সামরিক পরিকল্পনাগুলো সামনে এসেছে। ট্রাম্প প্রশাসন এখনো কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখলেও, পরিস্থিতি ব্যর্থ হলে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

এদিকে ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেন্টকম মধ্যপ্রাচ্যে ‘ডার্ক ঈগল’ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের অনুরোধ করেছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মোতায়েনযোগ্য হাইপারসনিক অস্ত্র, যা শব্দের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি গতিতে প্রায় ১ হাজার ৭২৫ মাইল দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্রটি বিশেষভাবে সুরক্ষিত সামরিক লক্ষ্য যেমন বাংকার বা মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ধ্বংসে কার্যকর। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এ ‘স্বল্পমেয়াদি ও শক্তিশালী’ হামলার রূপরেখা উপস্থাপন করেছেন বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই পরিকল্পনার অস্তিত্ব মানেই হামলা আসন্ন নয়, বরং এটি কূটনৈতিক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান শক্ত করার একটি কৌশলগত চাপ প্রয়োগ।


এ সম্পর্কিত আরো খবর