মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উড়োজাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে পরিবহন ও আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী (এরিয়াল রিফুয়েলিং) উড়োজাহাজের উপস্থিতি বিশেষভাবে নজরে এসেছে বলে পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন।
উড়োজাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ‘ফ্লাইটরাডার২৪’ জানিয়েছে, গত শনিবার ইউরোপ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের দিকে অস্বাভাবিক সংখ্যক মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজ উড়ে যেতে দেখা গেছে। এ ধরনের সমন্বিত বিমান চলাচল সাধারণ সময়ের তুলনায় বেশ ব্যতিক্রম বলে পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এই অঞ্চলের দিকে পাঠানো উড়োজাহাজগুলোর বড় অংশ ছিল ‘সি-১৭এ গ্লোবমাস্টার–৩’ মডেলের সামরিক কার্গো বিমান। প্রতিটি ‘সি-১৭এ গ্লোবমাস্টার–৩’ উড়োজাহাজ প্রায় ৭৭ টন সরঞ্জাম এবং ১০০ জন পর্যন্ত সেনাসদস্য পরিবহন করতে সক্ষম।
পর্যবেক্ষণে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অন্তত ১২টি পরিবহন উড়োজাহাজ মধ্যপ্রাচ্যের দিকে অগ্রসর হতে দেখা গেছে। এর মধ্যে কয়েকটি উড়োজাহাজ জার্মানি থেকে উড্ডয়ন করে ওই অঞ্চলের দিকে রওনা দেয়।
এ ছাড়া বোয়িং নির্মিত ‘কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটো ট্যাঙ্কার’ মডেলের জ্বালানি সরবরাহকারী উড়োজাহাজও মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যেতে দেখা গেছে। এসব উড়োজাহাজ আকাশে অন্যান্য সামরিক বিমানে জ্বালানি সরবরাহের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় ধরে অপারেশন চালাতে সহায়তা করে।
পর্যবেক্ষকদের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় অন্তত চারটি ‘কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটো ট্যাঙ্কার’ সক্রিয় রয়েছে বলে দেখা গেছে। এসব উড়োজাহাজের উপস্থিতি ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রম বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন।
তবে এ ধরনের উড়োজাহাজ মোতায়েনের নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের সমন্বিত বিমান চলাচল সাধারণত লজিস্টিক সহায়তা, সামরিক মহড়া কিংবা কৌশলগত প্রস্তুতির অংশ হিসেবে হয়ে থাকে।
মধ্যপ্রাচ্য দীর্ঘদিন ধরেই ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত ও উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিবহন ও জ্বালানি সরবরাহকারী উড়োজাহাজের এমন ব্যাপক মোতায়েন সাধারণত বড় ধরনের সামরিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়। তবে এটি সামরিক অভিযান, প্রতিরক্ষা মহড়া নাকি কেবল লজিস্টিক পুনর্বিন্যাস—তা এখনো পরিষ্কার নয়।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলো পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা আরও বাড়বে কি না, তা নিয়ে কূটনৈতিক ও সামরিক মহলে নানা আলোচনা চলছে।
তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা