ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান

তৃণমূল নেতাকর্মীদের ভোট গণনাকেন্দ্র না ছাড়ার আহ্বান মমতার


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৪ মে, ২০২৬ সময় : ৩:৫১ পিএম

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন গণনার মাঝে তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের প্রার্থী ও কর্মীদের গণনাকেন্দ্র ছেড়ে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, কাউন্টিং কেন্দ্রে উপস্থিত থাকা প্রত্যেকটি প্রতিনিধি এবং এজেন্টকে সেভাবেই উপস্থিত থাকতে হবে এবং সূর্যাস্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

মমতা বার্তার শুরুতেই মন্তব্য করেন যে শুরুতেই বিজেপি এগিয়ে থাকা স্বাভাবিক এবং এটা আগেই বলা হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন যে ফলাফল দেখাতে অনিয়ম হচ্ছে—“ওদেরগুলো আগে দেখানো হচ্ছে, আমাদেরগুলো পরে দেখানো হবে।” তিনি আরও দাবি করেন যে অনেক এলাকায় গণনা বন্ধ করে রাখা হয়েছে এবং কল্যাণী জেলায় সাতটি মেশিনে অমিল ধরা পড়েছে। এসব খারাপ খবরে নেতাকর্মীদের সতর্ক ও সজাগ থাকার নির্দেশ দেন তিনি।

তিনি কেন্দ্র এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকেও আক্রমণাত্মক আঙ্গিকে কথা বলেন। মমতা বলেন, পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে তৃণমূলের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে; অফিস ভাঙছে, জোর করে দখল করা হচ্ছে। আর “এসআইআরের নামে ভোট লুট” হওয়ার অভিযোগও তার ভাষণে উঠে আসে। তিনি দাবি করেন যে এখনও তৃণমূল একশোরও বেশি আসনে এগিয়ে আছে, তবে নির্বাচন কমিশন তা প্রকাশ করছে না এবং নিজেদের মতো করে খেলা করছে। মমতা দাবি করেন, “আমাদের পুলিশ মাথা নত করে তাদের হয়ে কাজ করছে।”

দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে মমতা দমবন্ধ না হতে বলেন। তিনি বলেন, “মন খারাপ করার কোনও কারণ নেই। আমি বলেছিলাম, সূর্যাস্তের পরে আপনারা জিতবেন। তিন-চার রাউন্ড হয়েছে, মোট ১৮-১৯ রাউন্ড হয়। তখনই আপনারা জিতবেন। অপেক্ষা করুন।” শেষ অংশে তিনি সমর্থকদের আশ্বাস দিয়ে বলেন, “নিশ্চিন্তে থাকুন। আমরা বাঘের বাচ্চার মতো লড়াই করে যাব।”

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, গণনা চলছে এমন সময় নেত্রী এই ধরনের বার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্য দুইতরফা — একদিকে দলের ভিত্তি শক্ত রাখার চেষ্টা এবং অন্যদিকে গণনার স্বচ্ছতা নিয়ে সন্দেহের সুর বজায় রাখা। গণনা কেন্দ্রে এজেন্টদের উপস্থিতি ও নজরদারি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার একটি বিধানও নির্বাচন কমিশনের প্রটোকলে রয়েছে; তবু মমতার অভিযোগ পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বিতর্কিত করে তুলতে পারে।

নির্বাচনকালীন উত্তেজনা ও বাহিনী মোতায়েন, অফিসবাধ ও গণনার অপকৌশল—এসব অভিযোগের মাঝেই প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে পরিস্থিতি সংযমে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। পুলিশের কাছে অভিযোগের জবাব, কেন্দ্রীয় বাহিনীর মন্তব্য বা নির্বাচন কমিশনের মন্তব্য এখনও প্রকাশিত হয়নি। অপরদিকে কেন্দ্রীয় শক্তি ও রাজ্য প্রশাসনের মধ্যে যে তফাত দেখা যায়, তা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ধৈর্য বজায় রাখার আহ্বানও প্রাসঙ্গিক বলে জানাচ্ছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা, কারণ ভুল তথ্য ও গুজব দ্রুত জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে।

ফলাফল ঘোষণার পর প্রতিটি রাউন্ড ও আনুষ্ঠানিক ডিক্লেয়ারের মাধ্যমে রাজ্যের রাজনীতিতে পরবর্তী দিনগুলোর রূপ কেমন হবে তা স্পষ্ট হবে। ততক্ষণ তৃণমূল কর্মীদের গণনাকেন্দ্রে উপস্থিতি, পরিস্থিতি সংবেদনশীল পর্যবেক্ষণ এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখাই প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর