ভারতের রাজ্যগুলিতে ভোট গণনার মাঝেই ফলাফলের প্রবণতা বিভিন্ন ছবির রূপরেখা দেখাচ্ছে। তামিলনাড়ু, কেরালা, আসাম ও পদুচেরিতে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া গণনায় নির্ধারিত সময় অনুযায়ী কিছু জায়গায় স্পষ্ট নেতৃত্ব নিকটস্থ হয়েছে। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে তুলে ধরা তথ্যানুযায়ী—তামিলনাড়ুতে থালাপতি বিজয়র নেতৃত্বে তামিলগা ভেট্টি কাজাগাম (টিভিকে) উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে আছে, কেরালায় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোটও সুবিধা অর্জন করেছে, আর উত্তর-পূর্ব ও কেন্দ্রীয় অঞ্চলের কিছু রাজ্যেই বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ এগিয়ে রয়েছে।
তামিলনাড়ুতে স্থানীয় সময় সোমবার বেলা ২টা ৫২ মিনিটে প্রাপ্ত তথ্যে টিভিকে ১৩৭টি আসনে এগিয়ে আছে। বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ ওই রাজ্যে ৪৩টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। টিভিকে-র এমন লিড রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় ধাক্কা হিসেবে ধরা হচ্ছে—বিশেষ করে রাজ্যের ঐতিহ্যগত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণে এর প্রভাব পড়বে।
কেরালায় নির্বাচনী ছকের মেজাজ আলাদা। কংগ্রেসের নেতৃত্বে থাকা ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ) প্রাথমিকভাবে ৮৭টি আসনে এগিয়ে রয়েছে, জয় শূন্যে নয়—ইউডিএফের পাশাপাশি জয় স্থানীয়ভাবে ১৭টি আসনে লিড করছে। লেফট ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (এলডিএফ) তুলনামূলকভাবে কম লিডে আছে; তারা ২৭টি আসনে এগিয়ে এবং জয় ৮টি আসনে লিডপজিশনে আছে। কেরালার রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় লেফট ও কংগ্রেস ঘাঁটায় পরিবর্তনগুলি নিরীক্ষণ করা হচ্ছে, কেননা রাজ্যের ভোট পরিচালনা ও পছন্দের ধারা রাজ্য রাজনীতিকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করতে পারে।
উত্তর-পূর্বের আসামে এনডিএ উল্লেখযোগ্যভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছে—প্রাথমিক লিড রিপোর্ট অনুযায়ী এনডিএ ৯৩টি আসনে এগিয়ে আছে, আর ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস (আইএনসি) ২৭টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। আসামের এই ছবি কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারগুলোর জন্য রাজনৈতিক বিচার-বিশ্লেষণের কেন্দ্রবিন্দু হবে, কারণ স্থানীয় ইস্যু ও জাতীয় রাজনৈতিক ধারা মিলিতভাবে ভোটকারীর রায়কে প্রভাবিত করেছে।
পদুচেরিতে এনডিএ ১১টি আসনে এগিয়ে থাকায় জোটের অবস্থান শক্তিশালী দেখাচ্ছে; জয় স্থানীয়ভাবে ১২টি আসনে লিড করছে। ডিএমকে-কংগ্রেস জোট সেখানে আপাতত ১টি আসনে এগিয়ে এবং জয় ২টি আসনে লিড করে দেখা যাচ্ছে। পদুচেরির ফলাভাস রাজ্যের ঐতিহ্যগত রাজনৈতিক জোটগুলোকে পরবর্তী কৌশল গ্রহণে প্রভাবিত করবে।
গণনার এই প্রথম পর্যায়ে পাওয়া লিডগুলো চূড়ান্ত ফলাফল হিসেবে গণ্য নাও হতে পারে। গণনার পরের রাউন্ডগুলোতে কিছু পরিবর্তন, প্রার্থীভিত্তিক কাঁটা-খেলা এবং অঙ্গরাজ্যের ভেতরের ভোটরপ্রবণতা ফলাফলকে আরও স্পষ্ট করবে। রাজ্যগুলোয় ফল প্রকাশের পুরো প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাজনৈতিক পরিবেশে সতর্কতা বজায় রাখার আহবান জানাচ্ছে প্রশাসন ও পর্যবেক্ষকরা।
এই ফলাফলগুলো কেবল ওই রাজ্যগুলোর অভ্যন্তরীণ শক্তি-সমীকরণই নয়, জাতীয় রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। শুরুর লিডে জয়ী দেখানো দলগুলো পরবর্তী ধাপে নিজেদের অবস্থানকে সুসংহত করতে চাইবে, আর যারা পিছিয়ে আছে তারা প্রতিরোধ ও পুনরায় সংগঠন কৌশল নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। ভোট পর্যবেক্ষক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পরবর্তী কয়েক ঘন্টা ও দিনের গণনা দেখে চূড়ান্ত চিত্র স্পষ্ট হবে।.
আকাশজমিন / আরআর