ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান

হাওরে ধান কাটতে নয়নভাগা, বাড়ছে ক্ষতির আশঙ্কা


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৪ মে, ২০২৬ সময় : ৪:১৯ পিএম

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে দিগন্তজোড়া সোনালি ধানের হাসি কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বিষাদে রূপ নিয়েছে। চোখের সামনেই পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকের সারা বছরের স্বপ্ন। ফসল রক্ষার উপায় না পেয়ে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে আশ্রয় নিচ্ছেন ‘নয়নভাগা’ প্রথার, যেখানে জমির মালিক অসহায় দর্শক আর শ্রমিকরা পানির নিচ থেকে ধান কেটে অর্ধেক ভাগ নিয়ে যায়।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষায় ‘নয়নভাগা’ চরম অসহায়ত্বের প্রতীক। প্রাকৃতিক দুর্যোগে যখন জমির ধান কাটা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে, তখন এক ধরনের চুক্তিতে শ্রমিকরা ধান কাটে। নিয়ম অনুযায়ী সংগৃহীত ধানের অর্ধেক শ্রমিকদের দিতে হয় এবং বাকি অর্ধেক পান জমির মালিক। অনেক ক্ষেত্রে পানির নিচ থেকে ধান তোলা এতটাই কষ্টসাধ্য ও ব্যয়বহুল হয় যে, মালিকের কিছুই করার থাকে না—শুধু চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া।

তাহিরপুর বড়দল গ্রামের এক কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, তিনি ৫০ একর জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছিলেন। আশা ছিল প্রায় ১ হাজার মণ ধান পাবেন। কিন্তু পাহাড়ি ঢলে সব শেষ হয়ে গেছে। এখন নয়নভাগা পদ্ধতিতে ধান কাটাচ্ছেন, তবুও ঋণের টাকা শোধ হবে কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন।

একই অবস্থা ক্ষুদ্র কৃষক কাশেম আলীর। তিন একর জমিতে প্রায় ৩০০ মণ ধানের আশা থাকলেও এখন এক মুঠো ধানও অবশিষ্ট নেই। তার মতো করিম মিয়া, জলিল মিয়া ও রাগীব আলীর মতো বহু কৃষক একই সংকটে পড়েছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলায় মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৫২৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। অতিবৃষ্টি ও ঢলের কারণে ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, শাল্লা ও সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

জেলা কৃষি অফিসার মো. ওমর ফারুক জানান, এ পর্যন্ত প্রায় ৬৬ শতাংশ জমির ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। তবে কৃষকদের দাবি, বাস্তবে ক্ষতির পরিমাণ সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি।

এদিকে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার জানান, হাওরের অধিকাংশ বেড়িবাঁধ এখনো অক্ষত রয়েছে। তবে নদী, নালা ও খাল পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারছে না। ফলে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। সুরমা নদী, যাদুকাটা নদীবৌলাই নদীসহ প্রধান নদীগুলোর পানি বর্তমানে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ফসলের পাশাপাশি গবাদিপশুর খাদ্য নিয়েও বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। ধান তলিয়ে যাওয়ায় খড় শুকানো সম্ভব হচ্ছে না। জামালগঞ্জের কৃষক ওয়াসিম মিয়া জানান, খাল-বিল ভরাট হয়ে পানি সরতে না পারায় অর্ধেকের বেশি ধান এখনো পানির নিচে। এতে সংসার চালানো এবং গবাদিপশু রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, যদি বৃষ্টি অব্যাহত থাকে এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়ে যেতে পারে। এতে করে ভবিষ্যতে খাদ্য সংকট ও কৃষকদের ঋণের বোঝা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর