ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতার পালাবদলের ইঙ্গিত মিলছে। এখন পর্যন্ত ভোট গণনার প্রবণতা অনুযায়ী বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গণনা করা ভোটের প্রবণতা অনুযায়ী বিজেপি এগিয়ে আছে ১৯৪টি আসনে, আর তৃণমূল কংগ্রেস ৯৪টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। ২৯৪ আসনের এই বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৪৮টি আসন। ফলে বর্তমান প্রবণতা অনুযায়ী বিজেপি সরকার গঠনের পথে রয়েছে।
নির্বাচনের এই ফলাফলে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতারা ইতিমধ্যে দাবি করেছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটতে যাচ্ছে এবং বিজেপি রাজ্যে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে।
বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারীসহ বিজেপির শীর্ষ নেতারা দাবি করেছেন, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর “রাজনৈতিক অধ্যায় শেষের পথে”। তবে তৃণমূল কংগ্রেস এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল নিয়ে মন্তব্য করেনি।
নির্বাচনের আগে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বারবার বলেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী একজন বাঙালি হবেন। এই বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা হয়।
এদিকে বিজেপি সরকার গঠন করলে কে মুখ্যমন্ত্রী হবেন—এই প্রশ্ন এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস একাধিক সম্ভাব্য নাম সামনে এনেছে।
সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে যাদের নাম আলোচনায় রয়েছে, তাদের মধ্যে আছেন শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, সাবেক সভাপতি দিলীপ ঘোষ, সুকান্ত মজুমদার এবং সাবেক সাংবাদিক ও রাজ্যসভার সাবেক সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত।
বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপি যদি সরকার গঠন করে, তাহলে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন দলীয় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। বিশেষ করে সংগঠন, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই ফলাফল বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে রাজ্যের প্রশাসন ও উন্নয়ন নীতিতেও নতুন দিকনির্দেশনা দেখা যেতে পারে।