সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির পৃথক অভিযানে চিংড়ি মাছের রেনুপোনা, মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ, শাড়ি ও ঔষধসহ প্রায় সাইত্রিশ লক্ষাধিক টাকার ভারতীয় মালামাল আটক করা হয়েছে।
সোমবার (০৪ মে ২০২৬) সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ বৈকারী, কাকডাঙ্গা, মাদরা, কুশখালী, ভোমরা ও পদ্মশাখরা বিওপির টহলদল দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এসব মালামাল আটক করে।
সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর শাদমান সাকিব জানান, বৈকারী বিওপির আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানার নতুনপাড়া এলাকা থেকে ৭০ হাজার টাকার ভারতীয় ঔষধ আটক করা হয়। কাকডাঙ্গা বিওপির পৃথক আভিযানে কলারোয়া থানার ভাদিয়ালী এলাকা থেকে ৩৫ হাজার টাকার ভারতীয় শাড়ি জব্দ করা হয়।
তিনি আরও জানান, মাদরা বিওপির টহলদল কলারোয়া থানার উত্তর ভাদিয়ালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকার ভারতীয় ঔষধ আটক করে। কুশখালী বিওপির আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানার কলমুর এলাকা থেকে ৪ লাখ ৩৬ হাজার টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ জব্দ করা হয়।
অন্যদিকে ভোমরা বিওপির আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানার মন্দির নামক স্থান থেকে ১২ লাখ টাকার ভারতীয় চিংড়ি মাছের রেনুপোনা আটক করা হয়। একই সময়ে পদ্মশাখরা বিওপির টহলদল সাতক্ষীরা সদর থানার শাখরা আশামোড় এলাকা থেকে ১৮ লাখ টাকার ভারতীয় চিংড়ি মাছের রেনুপোনা আটক করে।
সব মিলিয়ে আটককৃত মালামালের মোট মূল্য দাঁড়ায় ৩৭ লাখ ১৬ হাজার টাকা।
মেজর শাদমান সাকিব বলেন, চোরাকারবারীরা শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত থেকে এসব মালামাল বাংলাদেশে পাচারের চেষ্টা করছিল। নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ চোরাচালান পণ্য আটক করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, চোরাচালানের কারণে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সরকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম রোধে বিজিবি নিয়মিতভাবে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
স্থানীয়দের মতে, সীমান্ত এলাকায় বিজিবির কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযানের ফলে চোরাচালান কার্যক্রম কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তারা এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।
বিজিবি জানায়, আটককৃত মালামাল পরবর্তী আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। সীমান্ত নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ক্ষতি রোধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।