ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

অপরিকল্পিত নগরায়নে চাপে ভালুকা পৌরসভা, বাড়ছে জনদুর্ভোগ


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৪ মে, ২০২৬ সময় : ৮:৩৩ পিএম

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: 

ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা পৌরসভায় অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে বসবাসযোগ্য পরিবেশ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে বলে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রাজধানী ঢাকার উত্তরদিকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার এবং জেলা শহর ময়মনসিংহ থেকে প্রায় ৪১ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এ পৌরসভাটি ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের উভয় পাশে বিস্তৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ নগর এলাকা। ১৯৯৮ সালে ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ভালুকা পৌরসভার বর্তমান আয়তন ১০ দশমিক ৬৮ বর্গকিলোমিটার।

গত দুই দশকে রাজধানীর নিকটবর্তী হওয়ায় ভালুকা এলাকায় দ্রুত শিল্পায়ন ঘটে। পৌরসভার দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চলে গড়ে উঠেছে বস্ত্র, সিরামিক, ওষুধসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানা। একই সঙ্গে আবাসন খাতেও ব্যাপক সম্প্রসারণ হয়েছে। আধুনিক আবাসিক ভবন, আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং উন্নত মানের হোটেল স্থাপনের মাধ্যমে এলাকা দ্রুত নগরায়নের দিকে এগিয়ে গেছে। নাসির গ্লাস, মাস্টারবাড়ি, সিড স্টোর, হাজির বাজার ও ভরাডোবা এলাকায় এ নগরায়নের চিত্র সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান।

তবে এই উন্নয়নের পাশাপাশি সৃষ্টি হয়েছে একাধিক নাগরিক সমস্যা। স্থানীয় ও বহিরাগত মানুষের আগমনে এলাকায় জনঘনত্ব বেড়ে গেছে। পরিকল্পনাহীনভাবে আবাসিক ভবন ও শিল্পকারখানা গড়ে ওঠায় নগর ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। অনেক স্থানে অপরিকল্পিতভাবে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে, যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে কার্যকর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাব। সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে, ফলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি শিল্পকারখানার বর্জ্য যথাযথভাবে পরিশোধন না করে পানি ও পরিবেশে মিশে যাওয়ায় দূষণ বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে কৃষিজমি ও আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, বর্তমান বাস্তবতায় ভালুকা পৌরসভার সীমানা পুনর্বিন্যাস ও সম্প্রসারণ প্রয়োজন। বিশেষ করে দক্ষিণে নাসির গ্লাস এলাকা থেকে উত্তরে বগার বাজার পর্যন্ত এলাকা অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি বলে তারা মনে করেন। একই সঙ্গে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ভালুকার বাসিন্দা ও শিক্ষক মো. আলীমুর রাজী রাজীব বলেন, “দ্রুত নগরায়নের কারণে ভালুকার গুরুত্ব বাড়ছে। তবে পরিকল্পিত উন্নয়ন ছাড়া এই অগ্রগতি টেকসই হবে না। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে।”

সংশ্লিষ্টদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে ভালুকা পৌরসভাকে একটি আধুনিক, বাসযোগ্য ও টেকসই শহরে রূপান্তর করা সম্ভব। অন্যথায় অপরিকল্পিত নগরায়ন ভবিষ্যতে বড় ধরনের নগর সংকট তৈরি করতে পারে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর