পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান আগামী ৯ মে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। দিনটি রবীন্দ্রজয়ন্তী হওয়ায় নতুন সরকার গঠনের ক্ষেত্রে একটি প্রতীকী তাৎপর্যও যুক্ত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি ২০৬টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এর ফলে প্রায় ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন ঘটতে যাচ্ছে।
তবে এখনো নিশ্চিত নয়, কে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে শুভেন্দু অধিকারী-এর নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া দিলীপ ঘোষ, নিশীথ প্রামাণিক, অগ্নিমিত্রা পাল, রূপা গাঙ্গুলি এবং শঙ্কর ঘোষ-এর নামও আলোচনায় রয়েছে।
২০১১ সালে মাত্র ৪ শতাংশ ভোট পাওয়া বিজেপি ধীরে ধীরে নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করে। ২০১৯ সালে দলটি প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট পায় এবং ২০২১ সালের নির্বাচনে ৭৭টি আসন জিতে প্রধান বিরোধী দলে পরিণত হয়। এবারের নির্বাচনে সেই ধারাবাহিকতায় দলটি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের পথে এগিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি একটি বড় পরিবর্তন। ১৯৭২ সালের পর এই প্রথমবার এমন একটি দল রাজ্যে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে, যারা কেন্দ্রীয় সরকারেও ক্ষমতায় রয়েছে। ফলে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কেও নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, নির্বাচনে জয়ের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে পদ্ম ফুটেছে” এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। তিনি দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে উন্নয়নমুখী রাজনীতি এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
অন্যদিকে, পরাজিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেন, ১০০টিরও বেশি আসনে ফলাফল “লুট” করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এই অভিযোগকে সমর্থন জানিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের ফলাফল “চুরি” করা হয়েছে। তার এই বক্তব্য দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। এখন নজর রয়েছে ৯ মে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের দিকে, যেখানে নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।