লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় আলোচিত অটোরিকশাচালক রাজীব হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতারের পর এক ব্যতিক্রমধর্মী ঘটনা ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া আসামির পোষা বানরকে কেন্দ্র করে এখন থানাজুড়ে চলছে আলোচনা।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির নাম গিয়াস উদ্দিন গেসু। তিনি রাজীব হত্যা মামলার প্রধান আসামি হিসেবে অভিযুক্ত। তাকে গ্রেফতারের পর তার দীর্ঘদিনের পোষা বানর “রাজা মিয়া”কে ঘিরে নতুন কৌতূহলের সৃষ্টি হয়।
জানা গেছে, প্রায় ১৪ বছর ধরে গিয়াস উদ্দিন গেসু এই বানরটিকে লালন-পালন করে আসছিলেন। মালিককে গ্রেফতারের পর থেকেই বানরটি তার পিছু পিছু থানার আশপাশে অবস্থান করতে থাকে। পরে এটি রায়পুর থানা-এর বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বানরটি কখনও থানার পুকুরঘাটে, কখনও গাছের ডালে আবার কখনও থানার ভবনের আশপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মাঝে মাঝে স্বভাবসুলভ আচরণে ডাকাডাকিও করছে, যা দেখে স্থানীয়দের মধ্যে আবেগ ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
অনেকে বলছেন, বানরটির আচরণ দেখে মনে হচ্ছে সে তার মালিককে খুঁজে বেড়াচ্ছে। থানার আশপাশে তার অবাধ বিচরণ স্থানীয়দের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনায় এসেছে।
এ বিষয়ে রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীন মিয়া বলেন, “আসামিকে থানায় আনার কিছুক্ষণ পর পুকুরঘাট এলাকায় বানরটিকে দেখা যায়। এরপর থেকেই এটি থানার আশপাশে অবস্থান করছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে বন বিভাগকে জানানো হয়েছে। তারা দ্রুত এসে বানরটিকে নিজেদের তত্ত্বাবধানে নেবে।”
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার রাতে রায়পুর উপজেলার চর আবাবিল এলাকায় অটোরিকশাচালক রাজীবকে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে চাঁদপুর ওয়ারলেস এলাকা থেকে প্রধান আসামি গেসুকে গ্রেফতার করা হয়।
ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ও আলোচনার পরিবেশ বিরাজ করছে। হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর ঘটনার পাশাপাশি একটি পোষা বানরের উপস্থিতি বিষয়টিকে আরও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।
স্থানীয়রা বলছেন, ঘটনাটি যেমন দুঃখজনক তেমনি বানরটির আচরণ অনেককে আবেগপ্রবণ করে তুলেছে। কেউ কেউ প্রাণীটির নিরাপদ পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, রাজীব হত্যা মামলার তদন্ত চলমান থাকলেও এখন থানার আঙিনায় “রাজা মিয়া” নামের এই বানরটি নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মালিকহীন এই প্রাণীটির ভবিষ্যৎ কী হবে—এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল ও উদ্বেগ দুই-ই দেখা দিয়েছে।