বরগুনার আমতলী চৌরাস্তায় মাহেন্দ্র ও সিএনজি গাড়ি থেকে অবৈধভাবে চাঁদা আদায়ের সময় পৌর শ্রমিকদল সভাপতি মোঃ মিল্টন হাওলাদার এবং লাইনম্যান সুমনকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (তারিখ উল্লেখিত) দুপুরে আমতলী থানা পুলিশ তাদের আটক করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে আমতলী চৌরাস্তায় সিএনজি ও মাহেন্দ্র স্ট্যান্ডে গাড়ি থেকে চাঁদা আদায় করে আসছিলেন পৌর শ্রমিকদল সভাপতি মিল্টন হাওলাদার। এ নিয়ে সংগঠনের অভ্যন্তরে দুই পক্ষের মধ্যে গত ৭ মার্চ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পর বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলি উল্লাহ আমতলী উপজেলার সকল স্ট্যান্ডে চাঁদা আদায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধের নির্দেশ দেন।
নির্দেশনার পর প্রায় দেড় মাস সব ধরনের স্ট্যান্ডে চাঁদা আদায় বন্ধ ছিল। তবে এপ্রিল মাসের শেষের দিকে আবারও পৌর শ্রমিকদল সভাপতি মিল্টন হাওলাদার সিএনজি ও মাহেন্দ্র স্ট্যান্ডে চাঁদা আদায় শুরু করেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
মঙ্গলবার দুপুরে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের সময় আমতলী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে মিল্টন হাওলাদার ও তার সহযোগী লাইনম্যান সুমনকে আটক করে। পুলিশ ঘটনাস্থলেই চাঁদা আদায় কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সিএনজি ও মাহেন্দ্র চালকরা জানান, দেড় মাস বন্ধ থাকার পর গত শনিবার থেকে আবারও স্ট্যান্ডে চাঁদা আদায় শুরু হয়। এরপর মঙ্গলবার পুলিশ এসে অভিযান চালিয়ে দুইজনকে আটক করে। চালকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করা হচ্ছিল, যা তারা বাধ্য হয়ে দিতে হতো।
অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই মিল্টন হাওলাদার আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং দখল বাণিজ্যের মাধ্যমে তিনি এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন বলে স্থানীয়দের দাবি। এতে আমতলী পৌর এলাকার সাধারণ মানুষ ও পরিবহন শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে ছিলেন।
এ বিষয়ে আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাহাদাৎ মোঃ হাসনাইন পারভেজ বলেন, “স্ট্যান্ড থেকে চাঁদা আদায়কালে মিল্টন ও সুমন নামের দুইজনকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে আটক ঘটনার পর আমতলী চৌরাস্তা এলাকায় পরিবহন শ্রমিক ও স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানা গেছে। তবে ভবিষ্যতে আবারও চাঁদা আদায় শুরু হতে পারে কি না, এ নিয়ে অনেকে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, পরিবহন স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি রোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।