ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

আবারও উত্তপ্ত সিলেটের ছাত্ররাজনীতি


  • আপলোড সময় : বুধবার ০৬ মে, ২০২৬ সময় : ৫:১৫ পিএম

মোঃ শামীম খান, সিলেট

সামনে আসন্ন কমিটি, আর সেই কমিটিকে ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা, জল্পনা-কল্পনা। বিশেষ করে সাধারণ সম্পাদক পদকে কেন্দ্র করে চলমান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন একটি নাম-ছাত্রনেতা মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান মুস্তাফিজ। দীর্ঘদিনের রাজপথ-চষে বেড়ানো এই নেতাকে ঘিরে তৃণমূলে নতুন করে উচ্ছ্বাস, আবার কোথাও কোথাও অস্বস্তিও স্পষ্ট।

সংগঠনে এক দশকেরও বেশি সময়ের পথচলা

দলীয় সূত্র বলছে, ছাত্ররাজনীতিতে প্রবেশের পর থেকেই মুস্তাফিজ ছিলেন সংগঠনের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী। ২০১৩ সালে তিনি ইলিয়াস মুক্তি ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ, সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শাখার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেসময়ের আন্দোলন ছিল উত্তাল, ঝুঁকিপূর্ণ এবং প্রতিটি মুহূর্ত ছিল চ্যালেঞ্জে ভরা। অথচ ঠিক সেই সময় থেকেই মুস্তাফিজ নিজেকে রাজপথের নির্ভরযোগ্য সৈনিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।

২০১৩-১৪ সালের গণতান্ত্রিক আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০১৮ সালের নির্বাচনকেন্দ্রিক ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ২০২৩-২৪ সালের দফায় দফায় কঠোর আন্দোলন-প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই তার উপস্থিতি ছিল দৃশ্যমান। দলের কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশগ্রহণ, মিছিলে সামনের সারিতে থাকা, নেতাকর্মীদের সংকটে এগিয়ে আসা সব মিলিয়ে তিনি দ্রুতই তৃণমূলের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নাম হয়ে ওঠেন।

আন্দোলনের মাঠে ঝুঁকি, কারাবরণ, গুলিবিদ্ধ-তবুও অবিচল

বিভিন্ন সময় গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে হামলা, মামলা, নির্যাতন-সবই মোকাবিলা করতে হয়েছে তাকে। দলীয় নেতারা জানান, একাধিকবার কারাবরণ করেছেন মুস্তাফিজ। সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন। সেই সময় তিনি ছিলেন সামনের সারির নেতা। সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হন মাথায় স্পিন্টার ঢুকে যন্ত্রণায় অচেতন হয়ে পড়েছিলেন। আজও সেই ধাতব টুকরোর ব্যথা বয়ে বেড়াতে হচ্ছে।

কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়-এই সব প্রতিকূলতা কোনোভাবেই তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। বরং আরও দৃঢ় সংকল্পে রাজপথে ফিরে দাঁড়িয়েছেন। সহকর্মীদের ভাষায়- "ঝড়-ঝঞ্চার মাঝেও যে নেতা সংগঠনের আদর্শ থেকে একচুল নড়ে না, তাকেই তৃণমূল মনে রাখে।

শিক্ষাজীবনে কৃতিত্ব, ব্যক্তিজীবনে পরোপকারী রাজপথের লড়াইয়ের পাশাপাশি শিক্ষাজীবনেও রেখেছেন কৃতিত্বের স্বাক্ষর। সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট- ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে প্রথম শ্রেণি অর্জনের পর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে EEE-তে (ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং) প্রথম শ্রেণিতে স্নাতক সম্পন্ন করেন। বর্তমানে মাস্টার্স অধ্যয়নরত।

সহকর্মীদের মতে, তিনি শুধু আন্দোলনের কর্মী নন, ব্যক্তিজীবনে বন্ধুবৎসল পরোপকারীও। সংগঠনের জুনিয়র কর্মীদের পাশে দাঁড়ানো থেকে শুরু করে বিপদে-আপদে সহায়তা-সব ক্ষেত্রেই তার সুনাম রয়েছে।

তৃণমূলে গ্রহণযোগ্যতা-কমিটির প্রতিযোগিতায় আলাদা অবস্থান

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি, দুইটি কারণে মুস্তাফিজ বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে-

এক. দীর্ঘদিনের ত্যাগ রাজপথের ধারাবাহিক উপস্থিতি

দুই. সাংগঠনিক দক্ষতা তৃণমূলে শক্ত সমর্থন

তিন. কঠিন সময়েও সংগঠনের প্রতি অটল নিষ্ঠা

এই তিন বৈশিষ্ট্য তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। বিশেষ করে জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে তার ভূমিকা, ঝুঁকির মুখেও নেতৃত্ব দেওয়া-তৃণমূল নেতাকর্মীদের মনে তার অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে।

সাধারণ সম্পাদক পদ-প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র, আলোচনা আরও তীব্রতর

ছাত্রদলের চলমান রাজনীতিতে সাধারণ সম্পাদক একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবশালী পদ। সংগঠনের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা, কর্মসূচি বাস্তবায়ন, ছাত্রসমাজকে সংগঠিত করা সবকিছুই অনেকটাই নির্ভর করে এই পদের ওপর।

আর তাই এই পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মুস্তাফিজের নাম উঠে আসায় সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কেউ বলছেন-তিনি যোগ্যতার পরীক্ষিত মাপকাঠি" আবার কেউ বলছেন সংগঠন যারা চালায়, তারাই জানে মাঠের লড়াই কে লড়ে।ফলাফল যাই হোক, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন মুস্তাফিজই।

শেষ প্রশ্ন-তিনি কি নেতৃত্বের শীর্ষে পৌঁছাতে পারবেন?

সিলেটের ছাত্ররাজনীতিতে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে-

রাজপথের পরীক্ষিত এই নেতা কি শেষ পর্যন্ত সাধারণ সম্পাদক পদে আসীন হতে পারবেন?

দলীয় অভ্যন্তরে ইতিবাচক সাড়া থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ওপর। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যোগ্যতা, ত্যাগ সাহসিকতার মূল্যায়ন করলে মুস্তাফিজ নিঃসন্দেহে তালিকার শীর্ষে থাকার মতোই নেতৃত্বগুণ রাখেন।

তৃণমূলের প্রত্যাশা-আসন্ন কমিটিতে যেন যোগ্যতার যথার্থ মূল্যায়ন হয়। আর যদি তা হয়, তাহলে সিলেট ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বের প্রথম সারিতে যে মুস্তাফিজ থাকবেন- নিয়ে সন্দেহ খুব কমই।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর