ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান “অপারেশন এপিক ফিউরি” শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মার্কো রুবিও। মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
মার্কো রুবিও বলেন, “ইরানে অপারেশন এপিক ফিউরি শেষ করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনী। যে লক্ষ্য নিয়ে এই অভিযান শুরু করা হয়েছিল, তা অর্জিত হয়েছে।” তাঁর ভাষায়, নির্ধারিত সামরিক উদ্দেশ্য সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় এখন নতুন কোনো অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নেই।
তিনি আরও জানান, ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নতুন কোনো সামরিক উদ্যোগ নেওয়ার সম্ভাবনা আপাতত নেই। যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত বৃদ্ধি করতে চায় না এবং বরং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথেই এগোতে আগ্রহী বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট একটি স্থায়ী সমঝোতা চান, যেখানে আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতা স্মারক তৈরি করা হবে। ওই সমঝোতায় ভবিষ্যৎ সম্পর্ক, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র চায় হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত থাকুক, যাতে বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্য কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকে।
ইরানের পারমাণবিক প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রায় দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলমান এই বিরোধ একাধিকবার কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেও সমাধান হয়নি। ২০২৫ সালের জুন মাসে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের একটি সংঘর্ষ পরিস্থিতি তৈরি হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
এর আগে পারমাণবিক ইস্যুতে সমঝোতার উদ্দেশ্যে ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদলের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরদিন, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে “অপারেশন এপিক ফিউরি” শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। এই সামরিক অভিযানের ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) শীর্ষ কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপৌরসহ একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিহত হন। একই সঙ্গে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং তিন হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
অন্যদিকে, ইরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলসহ সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ওমানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
দীর্ঘ ৪০ দিনের সংঘাতের পর ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। সেই যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত করতে পারে, তবে পারমাণবিক ইস্যু ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক এখনো অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে।
আকাশজমিন /
আরআর