ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান

তারাব পৌরসভায় বিশ্ব ব্যাংকের মেগা প্রকল্প


  • আপলোড সময় : বুধবার ০৬ মে, ২০২৬ সময় : ৮:৪০ পিএম

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাব পৌরসভায় টেকসই নগর উন্নয়ন ও জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো গড়ে তুলতে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে একটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বুধবার (৬ মে) সকালে তারাব পৌর মিলনায়তনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘রেজিলিয়েন্ট আরবান এন্ড টেরিটোরিয়াল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’ (RUTDP)-এর আওতায় এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে তারাব পৌরসভার প্রশাসক সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প পরিচালক।

কর্মশালায় জানানো হয়, দেশের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের পৌরসভাগুলোর সঙ্গে উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের যোগাযোগ উন্নত করার মাধ্যমে সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করাই এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সক্ষম আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় চারটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এগুলো হলো—ক্লাস্টার উন্নয়ন পরিকল্পনা, ক্যাপিটাল ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান, পৌরসভা ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান এবং ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট অ্যাকশন প্ল্যান। এসব পরিকল্পনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন কাঠামো তৈরি করা হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

কর্মশালায় প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রথম পর্যায়ে দেশের ৩৬টি জেলার ৮১টি পৌরসভা এবং ৬টি সিটি কর্পোরেশনে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এতে প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন, যার অর্ধেকেরও বেশি নারী। ফলে নগরবাসীর জীবনমান উন্নয়নে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তারাব পৌরসভাসহ অন্তর্ভুক্ত এলাকাগুলোতে উন্নতমানের সড়ক, ফুটপাত, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সড়কবাতি, পাবলিক টয়লেট, বাজার ও বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। একই সঙ্গে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন, সুপারমার্কেট, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জন্য নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর পরিবেশ নিশ্চিত করতে এই প্রকল্পে আলাদা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আধুনিক নগর সুবিধা সম্প্রসারণের মাধ্যমে নাগরিক সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য বলে জানানো হয়।

কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রকল্পের প্রধান জেন্ডার স্পেশালিস্ট সাজেদা বেগম, নগর পরিকল্পনাবিদ তামান্না সালাম, সামাজিক ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ এম.টি.এস মেহমুদ, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ মোঃ হাসিবুল হক ও অরুন্মিতা প্রসাদ।

এছাড়া তারাব পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শরিফুল ইসলাম ভুঁইয়া, পৌর নির্বাহী প্রকৌশলী আজিজুল হক, সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাকির হোসেনসহ কাউন্সিলর ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তারাব পৌরসভা একটি আধুনিক, পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব নগরীতে রূপান্তরিত হবে। একই সঙ্গে এটি একটি মডেল শিল্পনগরী হিসেবে গড়ে ওঠার সম্ভাবনাও সৃষ্টি করবে। সংশ্লিষ্টদের আশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে নগর অবকাঠামোর উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং নাগরিক সেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর