ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইউপি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার বিষয়ে সরকার কিছুই জানে না: মীর শাহে আলম মানবতাবিরোধী অপরাধ: ওবায়দুল কাদের ও আরাফাতসহ ৭ জনের রায় আজ কেন ভারত থেকে টনে টনে ইলিশ আসছে বাংলাদেশে? যুদ্ধ শেষে ইরানের তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইঙ্গিত ট্রাম্পের ৫০ পেরিয়ে পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন জেমিমা গোল্ডস্মিথ গ্রিসে নৌকা ডুবে ১ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু, নিখোঁজ ২৫ আজ মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ সৌদির তায়েফসহ ৩ শহরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, আহত ১৩ আট বিভাগেই বৃষ্টির শঙ্কা, অপরিবর্তিত থাকবে দিন-রাতের তাপমাত্রা ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ডে সিঁড়িতে হুড়োহুড়িতে ঝরল ৬ প্রাণ

ইরান প্রস্তাব মেনে নিলে যুদ্ধ শেষ হবে: ট্রাম্প


  • আপলোড সময় : বুধবার ০৬ মে, ২০২৬ সময় : ৮:৫৭ পিএম

আকাশজমিন ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump জানিয়েছেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাব গ্রহণ করে, তবে চলমান সামরিক উত্তেজনার অবসান ঘটতে পারে। তবে তিনি একই সঙ্গে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে ইরানের ওপর আগের চেয়েও তীব্র ও ভয়াবহ বোমা হামলা চালানো হতে পারে।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, ইরান যদি আলোচনায় সম্মত হয় এবং প্রস্তাব মেনে নেয়, তাহলে ‘এপিক ফিউরি’ নামে চলমান সামরিক অভিযানের সমাপ্তি ঘটবে। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ Strait of Hormuz-এ আরোপিত নৌ অবরোধও তুলে নেওয়া হবে এবং তা আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রস্তাবটি মূলত উত্তেজনা প্রশমন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ইরান যদি সহযোগিতামূলক মনোভাব দেখায়, তাহলে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হতে পারে। তবে অন্যথায় এর পরিণতি হবে অত্যন্ত গুরুতর।

তিনি আরও বলেন, ‘যদি তারা রাজি না হয়, তাহলে আবারও বোমা হামলা শুরু হবে। আর দুঃখজনক হলেও সত্যি, এবারের হামলার মাত্রা ও তীব্রতা আগের চেয়ে অনেক বেশি হবে।’ ট্রাম্পের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের একটি বড় অংশের তেল পরিবহন হয়ে থাকে। ফলে সেখানে কোনো ধরনের সংঘাত বা অবরোধ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।

বিশ্ব রাজনীতিতে IranUnited States-এর মধ্যে সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ। পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার এবং বিভিন্ন সামরিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ ক্রমাগত তীব্র হয়েছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে এই উত্তেজনা আরও বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে ট্রাম্পের ঘোষিত ‘এপিক ফিউরি’ অভিযান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা চলছে। যদিও এই অভিযানের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবে এটি একটি সামরিক চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই ধরনের কঠোর ভাষার বিবৃতি একদিকে যেমন চাপ সৃষ্টির কৌশল হতে পারে, অন্যদিকে তা সংঘাত আরও বাড়িয়ে তুলতেও পারে। ফলে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা অনেকটাই নির্ভর করছে ইরানের প্রতিক্রিয়ার ওপর।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে তাদের নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি করেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুদ্ধ বা সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানই এই সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র কার্যকর পথ হতে পারে। কারণ, সরাসরি সংঘাত শুরু হলে এর প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং তা বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলছে, যে কোনো ধরনের সামরিক উত্তেজনা এড়িয়ে সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা জরুরি। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথকে কেন্দ্র করে সংঘাত হলে তা বিশ্ব বাণিজ্যে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটাতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের বক্তব্য নতুন করে উত্তেজনা বাড়ালেও, একই সঙ্গে এটি আলোচনার একটি সম্ভাবনাও তৈরি করেছে বলে মনে করছেন অনেকে। এখন দেখার বিষয়, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তাবে কী প্রতিক্রিয়া জানায় এবং পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর