ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইউপি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার বিষয়ে সরকার কিছুই জানে না: মীর শাহে আলম মানবতাবিরোধী অপরাধ: ওবায়দুল কাদের ও আরাফাতসহ ৭ জনের রায় আজ কেন ভারত থেকে টনে টনে ইলিশ আসছে বাংলাদেশে? যুদ্ধ শেষে ইরানের তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইঙ্গিত ট্রাম্পের ৫০ পেরিয়ে পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন জেমিমা গোল্ডস্মিথ গ্রিসে নৌকা ডুবে ১ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু, নিখোঁজ ২৫ আজ মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ সৌদির তায়েফসহ ৩ শহরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, আহত ১৩ আট বিভাগেই বৃষ্টির শঙ্কা, অপরিবর্তিত থাকবে দিন-রাতের তাপমাত্রা ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ডে সিঁড়িতে হুড়োহুড়িতে ঝরল ৬ প্রাণ

ইউপি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার বিষয়ে সরকার কিছুই জানে না: মীর শাহে আলম


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ১:৩৬ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

সারাদেশে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সম্প্রতি নেওয়া সিদ্ধান্ত সম্পর্কে সরকার কিংবা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কিছুই জানে না বলে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

 

তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন ও স্বায়ত্তশাসিত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হলেও স্থানীয় সরকারের নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রচলিত যে প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম-কানুন ও সুদীর্ঘকালের রেওয়াজ রয়েছে, সে অনুযায়ী সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের পূর্ব আলোচনা, দাপ্তরিক পত্র যোগাযোগ কিংবা প্রস্তুতিমূলক সমন্বয় বৈঠক ছাড়াই এই নির্বাচনের সম্ভাব্য দিনক্ষণ প্রকাশ করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এক বিশেষ আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের কাছে সরকারের এই আনুষ্ঠানিক ও স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেন।

 

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের করা বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘আপনাদের মতো আমরাও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং টেলিভিশনের সংবাদ বুলেটিনের মাধ্যমে দেখতে পেয়েছি যে, নির্বাচন কমিশন দেশের ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে কয়েক ধাপে ভোটগ্রহণের তারিখ ঘোষণা করেছে। তবে আমি আপনাদের মাধ্যমেই পুরো দেশবাসীকে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানাতে চাই যে, এ ব্যাপারে সরকার বা আমাদের মন্ত্রণালয় পূর্বে কিছুই জানত না। সরকারের সাথে কোনো ধরনের অফিশিয়াল পত্র যোগাযোগ কিংবা অন্য কোনো উপায়ে এ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আলোচনা করা হয়নি।’

 

নির্বাচন কমিশনের আইনি ক্ষমতা ও সাংবিধানিক স্বাধীনতার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী আরও যোগ করেন, ‘আমরা সকলেই জানি নির্বাচন কমিশন একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। দেশে যেকোনো পর্যায়ের নির্বাচন অনুষ্ঠান করার পূর্ণ সাংবিধানিক ক্ষমতা ও আইনি এখতিয়ার তাদের অবশ্যই রয়েছে। কিন্তু দেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন সবসময় প্রচলিত ও প্রতিষ্ঠিত নিয়ম-নীতি অনুযায়ী সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে প্রয়োজনীয় অগ্রিম আলোচনার পর প্রাথমিক প্রস্তুতি সভা, আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন ও আলোচনা করার পরেই মূলত নির্বাচনের তারিখ চূড়ান্ত ঘোষণা করে থাকে। কারণ এত বড় একটি স্থানীয় নির্বাচনে সরকারের বিপুল অর্থ বরাদ্দ, প্রয়োজনীয় বাজেট অনুমোদন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েনসহ অনেকগুলো প্রশাসনিক বিষয় সরাসরি জড়িত থাকে।’

 

মন্ত্রণালয়ের অসন্তোষ ও আলোচনার অভাবের কথা পুনরায় স্পষ্ট করে দিয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘আমি আবারও সবার উদ্দেশ্যে বিষয়টি রিপিট করছি, নির্বাচন কমিশন ইউপি নির্বাচনের জন্য যেসব সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছে, এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং সরকারের নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে কোনো প্রকার আলোচনা করা হয়নি। তাই সরকার এ ব্যাপারে সম্পূর্ণভাবে অন্ধকারে রয়েছে এবং কিছুই জানে না।’

 

উল্লেখ্য, সম্প্রতি সারাদেশের ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের সম্ভাব্য পূর্ণাঙ্গ দিনক্ষণ নির্ধারণ করেছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির সেই প্রস্তাবিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ১২ নভেম্বর প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারের এই সর্ববৃহৎ সামাজিক উৎসবের সূচনা হওয়ার কথা রয়েছে। মোট সাতটি সুনির্দিষ্ট ধাপে দেশের সব ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন সম্পন্ন করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল কমিশন।

 

সেই অনুযায়ী, দ্বিতীয় ধাপের ভোট নেওয়ার দিন ধার্য করা হয়েছিল আগামী ১৩ ডিসেম্বর এবং তৃতীয় ধাপের ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ৩০ ডিসেম্বর। এর পর আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি চতুর্থ ধাপের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। পরবর্তীতে ৪ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম ধাপ, ২২ এপ্রিল ষষ্ঠ ধাপ এবং সর্বশেষ ২৭ মে সপ্তম ও শেষ ধাপের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ করার বড় পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল কমিশন। তবে সরকারের সঙ্গে এই আলোচনার ব্যত্যয় ঘটায় প্রস্তাবিত সূচির বাস্তবায়ন নিয়ে এখন নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।



এ সম্পর্কিত আরো খবর