যশোরে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা মূল্যের স্বর্ণের বারসহ তিনজনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় একটি প্রাইভেট কার, পাঁচটি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা জব্দ করা হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) এর একটি বিশেষ আভিযানিক টহল দল যশোর-নড়াইল মহাসড়কের নীলগঞ্জ ব্রিজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, আটককৃতদের কাছ থেকে ৩ কেজি ৪৮ গ্রাম ওজনের ২৬টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত স্বর্ণের মূল্য ধরা হয়েছে ৬ কোটি ৩৯ লাখ ৪৭ হাজার ৪০ টাকা। এছাড়া জব্দ করা প্রাইভেট কারের মূল্য ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা, পাঁচটি মোবাইল ফোনের মূল্য ৬৬ হাজার ৫০০ টাকা এবং নগদ ৭ হাজার ৩২৭ টাকা। সব মিলিয়ে জব্দকৃত মালামালের মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৫৮ লাখ ৭০ হাজার ৮৬৭ টাকা।
যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় একটি প্রাইভেট কারে তল্লাশি চালিয়ে গাড়ির হেডরেস্টের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় স্বর্ণের বারগুলো উদ্ধার করা হয়।
আটক ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা ঢাকা থেকে যশোর হয়ে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে স্বর্ণের বারগুলো বহন করছিলেন। তারা ঢাকার আব্দুল্লাহপুর ও উত্তরা এলাকার চোরাকারবারিদের কাছ থেকে স্বর্ণ সংগ্রহ করে যশোরের চৌগাছা সীমান্ত এলাকায় নিয়ে যাচ্ছিলেন।
আটককৃতরা হলেন—শার্শা উপজেলার রাজনগর গ্রামের জহির উদ্দিনের ছেলে রনি, চৌগাছা উপজেলার কায়েকপাড়া এলাকার ইসহাক আলীর ছেলে আব্দুল গনি এবং যশোরের বাঘাডাঙ্গা এলাকার ইব্রাহিম সরদারের ছেলে ইসরাইল হোসেন।
বিজিবি জানিয়েছে, আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান আরও বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে স্বর্ণ পাচারের প্রবণতা বেড়েছে। এসব চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। সীমান্ত এলাকায় স্বর্ণ পাচারসহ সব ধরনের চোরাচালান রোধে বিজিবির আভিযানিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।” স্থানীয়দের মতে, সীমান্ত এলাকায় বিজিবির নজরদারি জোরদার হওয়ায় স্বর্ণ পাচারকারীদের তৎপরতা কিছুটা কমলেও সংঘবদ্ধ চক্র এখনও সক্রিয় রয়েছে।