ভারতের পশ্চিমবঙ্গ-এর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আজ শনিবার (৯ মে) শপথ নিতে যাচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। শপথগ্রহণের আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি থাকতেই রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপির পক্ষ থেকে শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকেই বিধানসভা, মহাকরণ ও ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে জোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
এবার আর বিরোধী দলনেতা হিসেবে নয়, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবেই বিধানসভায় প্রবেশ করবেন শুভেন্দু অধিকারী। তার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর পুরনো দপ্তর নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে। বিধানসভার ভেতরে কর্মব্যস্ততা ছিল চোখে পড়ার মতো। নতুন মুখ্যমন্ত্রীর জন্য কক্ষ সংস্কার, আসবাবপত্র গোছানো এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতির কাজ চলে দিনভর।
এদিকে প্রায় চার বছর পর খুলে দেওয়া হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়-এর কক্ষ। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে কক্ষটি তালাবদ্ধ ছিল। শুক্রবার সেই তালা খুলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয় এবং সরিয়ে ফেলা হয় তার নামফলক। ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ওই কক্ষে বসবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সচিবালয়ের কর্মীরা।
শুধু পার্থ চট্টোপাধ্যায় নয়, রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের নামফলকও একে একে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে খুলে নেওয়া হয় সাবেক সরকারি মুখ্য সচেতক নির্মল ঘোষ, সাবেক ডেপুটি চিফ গভর্নমেন্ট হুইপ দেবাশিস কুমার এবং সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর নামফলক।
ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সোমবার থেকে বিধানসভার নির্দিষ্ট কক্ষে বসবেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ইতোমধ্যে তার দপ্তরের প্রশাসনিক কাঠামোও প্রস্তুত করা হচ্ছে।
এদিকে শুভেন্দুর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কলকাতা শহরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যান চলাচলেও আনা হয়েছে নিয়ন্ত্রণ। শনিবার ভোর ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শহরে মালবাহী যান চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে জরুরি পরিষেবার যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এটি বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা। দীর্ঘদিনের শাসনের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অধ্যায়ের অবসান এবং শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নতুন প্রশাসনিক যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে।
নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগেই প্রশাসনিক অঙ্গনে পরিবর্তনের যে চিত্র দেখা যাচ্ছে, তা পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।