আন্তর্জাতিক ডেস্ক
শপথ গ্রহণের পরপরই পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেত্রী ও নতুন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি দাবি করেন, তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অতীতে “দেবীর আসনে” বসিয়েছিলেন, কিন্তু সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফলে প্রমাণ হয়েছে যে তিনি কোনো ঐশ্বরিক সত্তা নন এবং আইনের ঊর্ধ্বেও নন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শনিবার শপথ নেওয়ার পর অগ্নিমিত্রা পাল সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আগেও অনেক বক্তব্য দিয়েছেন, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের জনগণ তাদের জবাব ব্যালটের মাধ্যমে দিয়েছে। তার ভাষায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বোঝা উচিত তিনি আইনের ঊর্ধ্বে নন, ভারতের সংবিধানের ঊর্ধ্বেও নন।”
তিনি আরও বলেন, দলের অভ্যন্তরে অনেক নেতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খুশি করতে গিয়ে বিভিন্ন উপাধি দিয়েছেন। “কেউ কেউ তাকে মা সারদা পর্যন্ত বলেছে, কিন্তু মা সারদা আমাদের দেবী। এসব শুনে তিনি খুশি হলেও কখনো থামানোর চেষ্টা করেননি,” বলেন অগ্নিমিত্রা পাল।
তিনি দাবি করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিষয়ে তার ব্যক্তিগত কিছু বলার নেই, কারণ পশ্চিমবঙ্গের মানুষই তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে।
শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সহ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। একই দিনে অগ্নিমিত্রা পালসহ একাধিক নেতা মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। তালিকায় ছিলেন দিলীপ ঘোষ, নিশীথ প্রামাণিক, ক্ষুদিরাম টুডু এবং অশোক কীর্তনিয়া।
শপথ গ্রহণের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সরকারের ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, বিজেপির নজর থাকবে উন্নয়ন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর।
নারী মুখ্যমন্ত্রী নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কারণেই তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এটি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত। তার ভাষায়, “প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, দলের সভাপতি এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী—সবাই মিলে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিয়ে বিভিন্ন মত থাকতেই পারে। কেউ চাইলে নারী নেতৃত্ব চাইবে, আবার কেউ পরিবর্তনের জন্য পুরুষ নেতৃত্ব চাইবে। তবে তার মতে, এমন একজন নেতৃত্ব প্রয়োজন ছিল যার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং যিনি দলকে ভেতর ও বাইরে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
নতুন সরকারের অগ্রাধিকার প্রসঙ্গে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, প্রথম কাজ হবে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করা। তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকার পুলিশ প্রশাসনকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছে, যা বন্ধ করা প্রয়োজন।
দ্বিতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে তিনি অবকাঠামোগত উন্নয়নকে গুরুত্ব দেন। তার মতে, অনেক এলাকায় এখনো পানির সংকট, বাসস্থান, শৌচাগার, রাস্তা এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধান করা জরুরি।
তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তিনি কর্মসংস্থানকে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, রাজ্যের অনেক তরুণ-তরুণী কাজের জন্য অন্য রাজ্যে চলে গেছে, তাদের ফিরিয়ে আনা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা নতুন সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত।
আকাশজমিন / আরআর