কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার মৌকরা ইউনিয়ন পরিষদে কোনো ধরনের সরকারি নিয়োগ ছাড়াই সহকারী উদ্যোক্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে ওই ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি আব্দুর রহিমের ছেলে শিহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে।
রবিবার সকালে সরেজমিনে মৌকরা ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখা যায়, ডিসি অফিস কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত উদ্যোক্তা নুরুন্নবী সুজনের পাশের টেবিলে বসে সহকারী উদ্যোক্তার দায়িত্ব পালন করছেন শিহাব উদ্দিন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সচিবকে চাপ প্রয়োগ করেন যুবদল নেতা আব্দুর রহিম। পরে তার ছেলে শিহাব উদ্দিনকে কোনো ধরনের নিয়োগ বা আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়াই উদ্যোক্তার দায়িত্বে বসানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় বিভিন্ন সেবার নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিহাব উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, তার কোনো নিয়োগ নেই এবং তার বাবা তাকে এখানে বসিয়েছেন।অভিযুক্ত আব্দুর রহিমের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। মৌকরা ইউনিয়ন পরিষদ সচিব রাশেদুল হাসান মোহন বলেন, শিহাব উদ্দিনের কোনো আইনগত নিয়োগ বা সরকারি অনুমোদন নেই। তার বাবা তাকে এখানে বসিয়েছেন বলে তিনি জানান।
ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক আনিসুর রহমান বলেন, তিনি বিএনপি নেতা আব্দুর রহিমের ছেলে। তার কোনো নিয়োগ নেই। এভাবে দায়িত্ব পালন করানো নিয়মের মধ্যে পড়ে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি অনুমোদন ছাড়াই একজন ব্যক্তিকে ইউনিয়ন পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ সেবামূলক কাজে বসানো প্রশাসনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী। এতে সাধারণ মানুষও বিভ্রান্তির শিকার হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন।
এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবু রায়হান বলেন, বিষয়টি তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। তদন্ত করে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং অনিয়ম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
আকাশজমিন / আরআর