স্টাফ রিপোর্টার , গাজীপুর
গাজীপুরের টঙ্গীতে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে “গ্লোবাল কিডস স্কুল”। দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করা একটি অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের জন্য একটি নতুন ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এই উদ্যোগে আনন্দ ও আবেগে ভেসেছে পরিবারটি এবং স্থানীয় এলাকাবাসী।
রবিবার (১০ মে) বিকালে টঙ্গীর রেলস্টেশনের পাশ্ববর্তী কেরানীর টেক বস্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘরটি হস্তান্তর করা হয়। বহু বছর ধরে দুই শিশু সন্তানসহ একটি পরিবার সেখানে অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে বসবাস করছিল। তাদের থাকার জায়গা ছিল কেবল ছালা ও পলিথিনে তৈরি একটি অস্থায়ী আশ্রয়। ঝড়-বৃষ্টি হলে ঘর ভেঙে পড়ার আশঙ্কা থাকায় পরিবারটিকে প্রায়ই অন্যের আশ্রয়ে যেতে হতো।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল। নিরাপদ বাসস্থান না থাকায় তাদের জীবন ছিল অনিশ্চয়তা ও কষ্টে ভরা। বিষয়টি নজরে আসার পর মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে এগিয়ে আসে “গ্লোবাল কিডস স্কুল”।
স্কুলটির পরিচালক মাহবুবুর রহমান জিলানী ও পরিচালক মোহাম্মদ শামীম রেজার সার্বিক সহযোগিতায় ঘরটি নির্মাণ করা হয়। রঙিন টিন, বাঁশ ও পিলার দিয়ে একটি নিরাপদ ও স্থায়ী ঘর তৈরি করে দেওয়া হয় অসহায় পরিবারটির জন্য।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গ্লোবাল কিডস স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাহবুবুর রহমান জিলানী এবং সঞ্চালনা করেন পরিচালক মোহাম্মদ শামীম রেজা। ঘর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের সদস্য সচিব নাজমুল হোসেন মন্ডল।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৪৬ নং ওয়ার্ড যুবদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মোঃ আব্দুল খালেক, সাংবাদিক নেতা কালিমুল্লাহ ইকবাল, সাংবাদিক নুরুজ্জামান, আরিফ চৌধুরীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সমাজসেবক ও এলাকাবাসী।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সমাজে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো একটি মহৎ কাজ। “গ্লোবাল কিডস স্কুল” এর এই উদ্যোগ মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তারা আরও বলেন, এ ধরনের কার্যক্রম সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে এবং বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করে।
ঘর পাওয়ার পর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে পরিবারটি। তারা জানান, এতদিন কষ্টের মধ্যে জীবন কাটালেও আজ একটি নিরাপদ আশ্রয় পাওয়ায় তারা অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। বিশেষ করে শিশুদের মুখে নতুন ঘরের আনন্দ ছিল চোখে পড়ার মতো।
স্থানীয়রা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম আরও বেশি হওয়া উচিত। সমাজের বিত্তবান ও সংগঠনগুলো এগিয়ে এলে অসহায় মানুষের জীবনমান পরিবর্তন সম্ভব।
এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় এক ধরনের ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়। অনেকেই বলেন, এটি শুধু একটি ঘর নয়, বরং একটি পরিবারের নতুন জীবনের সূচনা।
আকাশজমিন / আরআর