যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শান্তি প্রস্তাবের জবাবে ইরানের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, তেহরানের পাঠানো জবাব তার কাছে “পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য” মনে হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিজেদের জবাব পাঠায় ইরান। যুদ্ধ বন্ধ ও পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিরোধপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনার আগে তেহরান তাদের শর্ত তুলে ধরে।
তবে ইরানের জবাব পেয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প অসন্তোষ প্রকাশ করেন। নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, “আমি মাত্রই ইরানের তথাকথিত প্রতিনিধিদের পাঠানো জবাবটি পড়লাম। এটি আমার পছন্দ হয়নি—এটি পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য।”
যদিও ট্রাম্প বিস্তারিতভাবে কোনো বিষয় উল্লেখ করেননি, তবে ধারণা করা হচ্ছে ইরানের দেওয়া শর্তগুলোই যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তির মূল কারণ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি ও উত্তেজনা প্রশমনের জন্য একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এর জবাবে ইরান বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত সামনে আনে।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, তেহরানের প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে—সব ফ্রন্টে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করা, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের ওপর নতুন কোনো হামলা না চালানোর নিশ্চয়তা এবং ইরানি তেল বিক্রির ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।
এছাড়া ইরানের ওপর থাকা সব ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে। তেহরান মনে করছে, এসব শর্ত পূরণ না হলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও অবিশ্বাসের কারণে আলোচনার পথ এখনো কঠিন রয়ে গেছে। বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের অবস্থান এখনো বিপরীতমুখী।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই কূটনৈতিক টানাপোড়েন আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ তৈরি করেছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আলোচনার পথ খোলা থাকলেও উভয় পক্ষের কঠোর অবস্থানের কারণে দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা কম।
এদিকে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনার কথাও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন বৈঠকের তারিখ ঘোষণা করেনি।