মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি বর্তমানে অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে। তার ভাষায়, এই যুদ্ধবিরতি এখন “লাইফ সাপোর্টে” টিকে আছে। একই সঙ্গে তিনি হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী ও বাণিজ্যিক জাহাজে পুনরায় মার্কিন নৌ-এসকর্ট বা পাহারা দেওয়ার পরিকল্পনাও বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রস্তাবের জবাবে তেহরানের প্রতিক্রিয়া ওয়াশিংটনের জন্য হতাশাজনক হয়েছে। এতে স্পষ্ট হয়েছে যে, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনো দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য বিদ্যমান। ফলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
মার্কিন অর্থনীতির ওপর চলমান উত্তেজনার নেতিবাচক প্রভাব এবং দেশের অভ্যন্তরে বাড়তে থাকা চাপের মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তিনি মনে করেন, ওয়াশিংটনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি ইরান প্রত্যাখ্যান করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
সোমবার (১১ মে) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমি বলব, যুদ্ধবিরতি এখন সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। এটি এখন লাইফ সাপোর্টে আছে। বলা যায়, যুদ্ধবিরতিটি টিকে থাকার শেষ পর্যায়ে রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তেল ও অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিতে মার্কিন নৌবাহিনীর পাহারা ব্যবস্থা পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
‘অপারেশন ফ্রিডম’ নামে পরিচিত এই নিরাপত্তা উদ্যোগটি প্রথম চালু করা হয়েছিল ৬ মে। তবে মাত্র দুই দিনের মধ্যেই সেটি স্থগিত করা হয়। নতুন করে এ উদ্যোগ চালু হলে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।
ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যেতে তিনি এখনো আগ্রহী কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ইরানের নেতৃত্বের মধ্যে বিভক্তি রয়েছে। তার দাবি, একাংশ “মধ্যপন্থী”, অন্য অংশ “উন্মাদ” অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, “উন্মাদরা শেষ পর্যন্ত লড়াই করতে চায়। আর সেই লড়াই খুব দ্রুত হতে পারে।”
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হওয়ায় সেখানে যেকোনো সামরিক অস্থিরতা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করতে পারে।
এদিকে আন্তর্জাতিক মহল এখন পরিস্থিতির দিকে গভীর নজর রাখছে। কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখার আহ্বান জানানো হলেও দুই দেশের সাম্প্রতিক অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।