গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার টোক ডাক বাংলোর একটি সরকারি জমি লিজ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ঘুষ বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রকাশ্যে আসা একটি ভিডিও ফুটেজকে ঘিরে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, সরকারি জমি লিজ নিতে আগ্রহী এক ব্যক্তির সঙ্গে নিজ কার্যালয়ে বসে কথা বলছেন সিইও মো. নজরুল ইসলাম। আলোচনার এক পর্যায়ে তাকে ঘুষের অঙ্ক নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে শোনা যায়। তিনি বলেন, সময় খুব বেশি নেই, এক সপ্তাহের মধ্যেই কাজ শেষ করতে হবে। এক কোটির দরকার নেই, আপনি ৮০ লাখ টাকায় বিষয়টি ফাইনাল করবেন। তবে ৭৫ লাখ টাকার নিচে নামা যাবে না।
ভিডিওটি অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৪ মার্চ দুপুর সোয়া ১টার দিকে। পরে ওই ভিডিও ফুটেজ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং গণমাধ্যমের হাতে পৌঁছায়। এতে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর প্রশাসনিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
ভিডিওতে সিইও মো. নজরুল ইসলামকে আরও বলতে শোনা যায়, খুব দ্রুত প্রশাসক নিয়োগ হয়ে যাবে। এই প্রশাসক রাজনৈতিক হবে, বিএনপির প্রশাসক হবে। আগে আওয়ামী লীগের সঙ্গে একটা সমঝোতা ছিল, তখন অনেক বিষয় সহজে বোঝানো যেত। কিন্তু ভবিষ্যতে প্রশাসকের সঙ্গে বিষয়গুলো বোঝানো সহজ হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সরকারি সম্পত্তি লিজ প্রক্রিয়ায় এমন ঘুষ লেনদেনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের অনেকে এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
তারা বলছেন, সরকারি জমি জনগণের সম্পদ। এ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। অন্যথায় সরকারি সেবার প্রতি জনগণের আস্থা কমে যাবে।
এদিকে প্রশাসনিক পর্যায়েও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে। ভিডিও ফুটেজ যাচাই-বাছাই করে সত্যতা নিরূপণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম শুরু করার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
অন্যদিকে, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলামের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি ঘিরে প্রশাসনিক মহলে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারি ভূমি লিজ বা উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না গেলে দুর্নীতির সুযোগ থেকে যাবে। তাই ডিজিটাল নজরদারি ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা জরুরি।
সব মিলিয়ে ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি শুধু স্থানীয় পর্যায়েই নয়, জাতীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাতেও নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। এখন সবার নজর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।