ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ইয়েমেনে ফের তীব্র সংঘাত, ১২৯টি হামলার দাবি হুথিদের

ফল স্থগিত থাকলেও এমপির ভূমিকায় দুই বিএনপি নেতা


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১৪ মে, ২০২৬ সময় : ১০:৩৩ এএম

খেলাপি ঋণের মামলায় নির্বাচনের ফল স্থগিত থাকায় এখনও শপথ নিতে পারেননি চট্টগ্রামের দুই বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী ও সরোয়ার আলমগীর। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ সদস্য না হলেও নিজ নিজ এলাকায় এমপির মতো কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। সরকারি অনুষ্ঠান, উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন এবং প্রশাসনিক কর্মসূচিতে তাদের উপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ও ফটিকছড়ি উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ঘিরে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থী আসলাম চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম-২ আসনের সরোয়ার আলমগীরকে একাধিক সরকারি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে দেখা গেছে। কিছু অনুষ্ঠানে তাদের নাম ব্যানারে না থাকলেও বক্তৃতার সময় সংসদ সদস্য হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে তাদের ফলাফল প্রকাশ ও শপথ গ্রহণের সুযোগ চেয়ে করা পৃথক আবেদনের ওপর আজ বৃহস্পতিবার আদেশ দেবেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগ বুধবার শুনানি শেষে আদেশের জন্য দিন ধার্য করেন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঋণখেলাপির অভিযোগে আসলাম চৌধুরী ও সরোয়ার আলমগীরের বিরুদ্ধে রিট আবেদন করা হয়। পরে আপিল বিভাগ তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিলেও শর্ত দেন—ঋণখেলাপি নন, তা প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের নির্বাচনের ফল প্রকাশ করা যাবে না।

ফলে নির্বাচনে জয়ী হলেও এখন পর্যন্ত তাদের নামে গেজেট প্রকাশ হয়নি এবং তারা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে পারেননি।

নির্বাচন কমিশনের স্থগিত ফল অনুযায়ী, চট্টগ্রাম-২ আসনে সরোয়ার আলমগীর পেয়েছেন এক লাখ ৩৯ হাজার ৮৩১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নুরুল আমিন পেয়েছেন ৬৫ হাজার ৫৫০ ভোট। অন্যদিকে চট্টগ্রাম-৪ আসনে আসলাম চৌধুরী পেয়েছেন এক লাখ ৪৩ হাজার ৫৫২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আনোয়ার সিদ্দিক পেয়েছেন ৯১ হাজার ৪০৪ ভোট।

জানা গেছে, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি বিজয়ী প্রার্থীদের গেজেট প্রকাশ করা হলেও আপিল বিভাগের নির্দেশনার কারণে আসলাম চৌধুরী ও সরোয়ার আলমগীরের নামে গেজেট জারি হয়নি।

তবে শপথ না নিয়েও তারা এলাকায় প্রভাবশালী ভূমিকায় রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস, ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখসহ বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে অংশ নেন আসলাম চৌধুরী। অনেক অনুষ্ঠানে তাকে সংসদ সদস্য হিসেবেও পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।

গত ১৭ এপ্রিল সীতাকুণ্ডের মহালঙ্কা এলাকায় জিন্নাত আলী চৌধুরী নুরানি মাদ্রাসার নবনির্মিত মসজিদ ভবন উদ্বোধন করেন আসলাম চৌধুরী। উদ্বোধনী ফলকে তাকে “গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের চট্টগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য” হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন প্রকল্প উদ্বোধনেও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ দেখা গেছে। সমালোচনার মুখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে কিছু ছবি সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে ত্রাণ সহায়তা, কাবিটা ও কাবিখা কর্মসূচির আওতায় কোটি টাকার বরাদ্দ এসেছে। এসব বরাদ্দ এখনও বিতরণ না হলেও স্থানীয় বিএনপি নেতারা বিভিন্ন প্রকল্প তদারকির দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি ডা. কমল কদর বলেন, গত তিন মাস ধরে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প দেখাশোনা করছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মোরছালীন। তিনি বলেন, “যাতে কোনো অনিয়ম না হয়, সেজন্যই তদারকি করা হচ্ছে।”

তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, বিশেষ বরাদ্দ এখনও বিতরণ করা হয়নি। এমপির নামফলকে কোনো প্রকল্প উদ্বোধনের সুযোগ নেই। দলীয় লোকজন যদি ছবি প্রচার করে, সেটি তাদের ব্যক্তিগত বিষয়।

ফটিকছড়িতেও একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে। গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরোয়ার আলমগীরকে সঙ্গে নিয়ে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ইউএনও সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম। ওই অনুষ্ঠানে অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রা উদ্বোধন, কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও সরোয়ার আলমগীরকে দেখা গেছে।

তবে ইউএনও সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম দাবি করেন, সরোয়ার আলমগীর উপস্থিত থাকলেও তাকে প্রধান অতিথি করা হয়নি। তিনি বলেন, “যদি কোথাও এমন হয়ে থাকে, সেটি ভুল হয়েছে।”

এ বিষয়ে সরোয়ার আলমগীর বলেন, “আমি জনগণের ভোটে নির্বাচিত এমপি। আদালতের বিষয় আদালতেই নিষ্পত্তি হবে। জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে এলাকায় কাজ করা আমার দায়িত্ব।”

অন্যদিকে আসলাম চৌধুরীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে আসলাম চৌধুরী ও সরোয়ার আলমগীরের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আপিল বিভাগের অন্তর্বর্তী আদেশের কারণে ফল প্রকাশ আটকে আছে। তবে আপিল নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হলে জনগণের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে তাদের শপথের সুযোগ দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।

জামায়াত প্রার্থীর আইনজীবী শিশির মোহাম্মদ মনির বলেন, “মূল আপিল নিষ্পত্তি না করে এ ধরনের আবেদন গ্রহণ করা হলে মূল মামলার প্রয়োজনীয়তা থাকবে না।”


এ সম্পর্কিত আরো খবর