ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান

আইনজীবীর বেশে কলকাতা হাইকোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১৪ মে, ২০২৬ সময় : ৩:৪৬ পিএম

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার আইনজীবীর বেশে হাজির হলেন কলকাতা হাইকোর্টে। বৃহস্পতিবার সকালে আদালত চত্বরে তার উপস্থিতি ঘিরে কৌতূহল ও আলোচনা শুরু হয়। কালো শামলা পরে আদালতে প্রবেশ করতে দেখা যায় তৃণমূলনেত্রীকে। এ সময় আদালত চত্বরে উপস্থিত সমর্থক ও আইনজীবীদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়।

বৃহস্পতিবার ভোট-পরবর্তী অশান্তি সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানি ছিল প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের এজলাসে। সেই মামলায় অংশ নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আদালতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান, ১৯৮৫ সালে বার কাউন্সিলে তার নাম নথিভুক্ত হয়েছিল এবং এরপর থেকে নিয়মিত সদস্যপদ নবায়ন করেছেন।

আদালতে মমতা বলেন, “প্রথম বার কলকাতা হাইকোর্টে সওয়াল করছি। ভোটের পরে শিশু, নারী, মুসলিম কাউকে রেয়াত করা হচ্ছে না। বিবাহিত মহিলাদের ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন এসব অভিযোগ আসছে। ঘরবাড়ি লুট হচ্ছে, আগুন লাগানো হচ্ছে। পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।”

তিনি আরও বলেন, আদালতের অনুমতি পেলে এসব অভিযোগ অতিরিক্ত হলফনামায় যুক্ত করবেন। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। আদালতে বক্তব্যের একপর্যায়ে মমতা বলেন, “রাজ্যের মানুষকে বাঁচান। এটা কোনো বুলডোজার রাজ্য নয়। এটা পশ্চিমবঙ্গ, প্লিজ রাজ্যবাসীকে বাঁচান।”

হাইকোর্ট চত্বরে মমতার উপস্থিতির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সেখানে দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রয়োজনের সময়ে পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে তিনি কখনো একা ছেড়ে দেন না। সত্য, ন্যায়বিচার ও সাংবিধানিক মূল্যবোধের পক্ষে তার অবস্থান অব্যাহত রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদালতে উপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতি ও সহিংসতার অভিযোগকে গুরুত্ব দিতেই তিনি সরাসরি আদালতে উপস্থিত হয়েছেন। তার আইনজীবীর পোশাকে আদালতে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক ও সামাজিক দুই ক্ষেত্রেই নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এদিকে আদালতে তার বক্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার এই পদক্ষেপকে সাহসী সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার কৌশল হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। তবে সমর্থকদের দাবি, রাজ্যের মানুষের পক্ষে দাঁড়াতেই আদালতে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কলকাতা হাইকোর্টে এই উপস্থিতির মাধ্যমে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন তৃণমূলনেত্রী। ভোট-পরবর্তী অস্থিরতা ও সহিংসতা নিয়ে রাজ্যের রাজনীতিতে উত্তেজনা চলমান থাকলেও আদালতে তার সরাসরি অংশগ্রহণ পরিস্থিতিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর