সংযুক্ত আরব আমিরাতের পূর্ব উপকূলের কাছে নোঙর করা একটি বাণিজ্যিক জাহাজ দখল করে সেটিকে ইরানের জলসীমার দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এ তথ্য জানানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি। এ ঘটনার সূত্র হিসেবে এএফপির বরাত দেওয়া হয়েছে।
ইউকেএমটিও জানায়, ফুজাইরাহ বন্দরের উত্তর-পূর্বে প্রায় ৩৮ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থানরত জাহাজটিতে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিরা উঠে সেটির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। এরপর জাহাজটি ধীরে ধীরে ইরানের জলসীমার দিকে অগ্রসর হতে দেখা যায়। তবে এখনো পর্যন্ত জাহাজটির নাম প্রকাশ করা হয়নি। পাশাপাশি কোনো পক্ষও এ ঘটনার দায় স্বীকার করেনি।
ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বেইজিংয়ে বৈঠকে মিলিত হন। ওই বৈঠকে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত এবং এর ফলে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস বাণিজ্যে সৃষ্ট অস্থিরতা গুরুত্ব পাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে একই দিনে ইসরায়েল দাবি করে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেছেন। তবে এই দাবি দ্রুতই অস্বীকার করে ইউএই কর্তৃপক্ষ, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
ফুজাইরাহ বন্দর সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। পারস্য উপসাগরের বাইরে অবস্থান করায় এই বন্দর দেশটির কৌশলগত বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি হওয়ায় এই অঞ্চলটি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য স্পর্শকাতর হিসেবে বিবেচিত হয়। ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার কারণে এই সামুদ্রিক রুট বহুবার ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
সম্প্রতি এই অঞ্চলে একাধিক নৌ-ঘটনা আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়িয়েছে। গত রোববার দক্ষিণ কোরিয়া জানায়, হরমুজ প্রণালিতে তাদের একটি কার্গো জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে। পরে কাতার জানায়, জাহাজটি আমিরাত থেকে তাদের জলসীমার দিকে যাচ্ছিল, তখন সেখানে ড্রোন হামলা চালানো হয়। এসব ঘটনার ধারাবাহিকতায় নতুন করে জাহাজ জব্দের এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
এখন পর্যন্ত জাহাজটি কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং কারা এর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। পরিস্থিতি ঘিরে পারস্য উপসাগর অঞ্চলে নিরাপত্তা সতর্কতা আরও জোরদার করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আকাশজমিন / আরআর