ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬,  ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৭ দফা দাবি না মানলে আরেকটি বিপ্লব হবে: জামায়াত আমীর আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায় সুইজারল্যান্ডে রুমমেটের মরদেহ উদ্ধার, বাংলাদেশি গ্রেপ্তার আজ থেকে শুরু হচ্ছে পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম মাঝপথেই সফর বাতিল করে দেশে ফিরলেন পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট মাত্র ২৮ পয়েন্টের ব্যবধানে ব্যালন ডি’অর জিতলেন হ্যারি কেইন রাশিয়ার হামলা রুখতে ইউক্রেনকে ৫০০ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র নেতানিয়াহুকে হটিয়ে বিকল্প সরকার গঠনে আলোচনায় বিরোধীরা তাহসিফের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় বাবার মামলা, বন্ধু দ্বীপ গ্রেপ্তার ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ শুরু

ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির ওপর কি কোরবানি ওয়াজিব?


  • আপলোড সময় : শুক্রবার ১৫ মে, ২০২৬ সময় : ৬:৩৩ পিএম

পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানি মুসলিম উম্মাহর জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে হযরত ইবরাহিম (আ.) ও তার পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.)-এর আত্মত্যাগের স্মৃতিকে ধারণ করেই মুসলমানরা কোরবানি আদায় করে থাকেন। তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে— ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি কি কোরবানি দিতে পারবেন বা তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে কি না।

ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, কোরবানি প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমান নর-নারীর ওপর ওয়াজিব। কোরবানির জন্য নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া জরুরি। তবে যাকাতের মতো এখানে সম্পদের ওপর পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত হওয়া শর্ত নয়। জিলহজ মাসের ১০ তারিখ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কেউ নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলেই তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে।

ফিকহবিদদের মতে, কোরবানির ক্ষেত্রে ঋণের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ব্যক্তি যদি ঋণগ্রস্ত হন এবং ঋণের টাকা পরিশোধ করার পর তার কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদ অবশিষ্ট না থাকে, তাহলে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে না। কিন্তু ঋণ পরিশোধের পরও যদি তার কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ থেকে যায়, তাহলে তাকে কোরবানি আদায় করতে হবে।

ইসলামি গবেষকরা জানান, কোরবানির নিসাব নির্ধারণের ক্ষেত্রে কিছু সম্পদ হিসাবের আওতায় আসে। এর মধ্যে রয়েছে নগদ টাকা, সোনা-রুপা, অলংকার, ব্যবসায়িক পণ্য, প্রয়োজনের অতিরিক্ত জমি, বাড়ি বা গাড়ি এবং অতিরিক্ত মূল্যবান আসবাবপত্র। তবে বসবাসের জন্য ব্যবহৃত বাড়ি, প্রয়োজনীয় পোশাক বা দৈনন্দিন ব্যবহারের জিনিসপত্র সাধারণত নিসাবের হিসাবে ধরা হয় না।

ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, ইসলাম মানুষের সামর্থ্যের বাইরে কোনো বিধান চাপিয়ে দেয়নি। তাই কেউ যদি প্রকৃত অর্থেই আর্থিক সংকটে থাকেন এবং ঋণের বোঝায় জর্জরিত হন, তাহলে তার জন্য কোরবানি বাধ্যতামূলক নয়। আবার অনেকে ঋণ থাকলেও আর্থিকভাবে স্বচ্ছল থাকেন। সেক্ষেত্রে কোরবানি আদায় করতে হবে।

আলেমরা আরও বলেন, কোরবানি শুধু পশু জবাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর মাধ্যমে আত্মত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর আনুগত্যের শিক্ষা অর্জনই মূল উদ্দেশ্য। তাই সামর্থ্য অনুযায়ী ইবাদত পালন করাই ইসলামের শিক্ষা।

ইসলামি শরিয়তের বিভিন্ন গ্রন্থে এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। ‘আহসানুল ফাতাওয়া’, ‘বাদায়েউস সানায়ে’ এবং ‘ফাতাওয়া হিন্দিয়া’ গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে, ঋণ পরিশোধের পর নিসাব পরিমাণ সম্পদ অবশিষ্ট থাকলে কোরবানি ওয়াজিব হবে, অন্যথায় নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোরবানির আগে নিজের আর্থিক অবস্থা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা উচিত। প্রয়োজনীয় দেনা পরিশোধের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়াই উত্তম। পাশাপাশি কোরবানির প্রকৃত উদ্দেশ্য ও ইসলামের ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে সচেতন থাকাও জরুরি।


এ সম্পর্কিত আরো খবর