ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সিরাজগঞ্জে বেপরোয়া গরু চোরচক্র, আতঙ্কে কৃষক-খামারিরা আজ কমতে পারে তাপমাত্রা, স্বস্তির বৃষ্টির পূর্বাভাস দুপুর ১২টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আজ বিশেষ সংবাদ সম্মেলন রাশিয়ার হুমকিতে ফ্রান্সের পারমাণবিক ছাতায় ফিনল্যান্ড জাপানে শতবর্ষী প্রবীণের সংখ্যা ১ লাখ ৭ হাজার, ৮৮ শতাংশই নারী মোহাম্মদপুরে মধ্যরাতে পার্কিং করা বাসে আগুন নন্দিগ্রাম-রেজিনগরের উপনির্বাচন মুসলিমদের জন্য পরীক্ষা: শুভেন্দু অধিকারী মিয়ানমার জান্তাকে তথ্য সরবরাহের অভিযোগে তদন্তের মুখে টেলিনর ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে ড্রোন হামলা: স্তব্ধ সৌদির বিশ্বব্যাপী তেল রপ্তানি থানচির বলিপাড়ায় আগুনে ১৩ দোকান ভস্মীভূত

. ইন্দোনেশিয়ায় অবৈধ স্বর্ণখনিতে ভূমিধস, নিহত ৯


  • আপলোড সময় : শুক্রবার ১৫ মে, ২০২৬ সময় : ৬:৪১ পিএম

ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে একটি অবৈধ স্বর্ণখনিতে ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনায় অন্তত ৯ জন খনি শ্রমিক নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। শুক্রবার (১৫ মে) দেশটির পুলিশ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে, পশ্চিম সুমাত্রার সিজুঞ্জুং জেলায় অবস্থিত অবৈধ স্বর্ণখনিটির পাশের একটি পাহাড় হঠাৎ ধসে পড়ে। এ সময় শ্রমিকরা প্রায় তিন মিটার গভীরে খনির ভেতরে কাজ করছিলেন। আকস্মিক ভূমিধসে তারা মাটিচাপা পড়ে যান।

পশ্চিম সুমাত্রা পুলিশের মুখপাত্র সুস্মেলাবতি রোসা জানান, ঘটনাস্থলটি অনুমোদনহীন একটি স্বর্ণখনি ছিল। পাহাড় ধসের সময় সেখানে কয়েকজন শ্রমিক কাজ করছিলেন। দুর্ঘটনায় নয়জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। তবে তিনজন শ্রমিক জীবিত বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন।

দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় পুলিশ, স্বেচ্ছাসেবী ও উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চালানো হয়। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর নিখোঁজ শ্রমিকদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর খনিটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং পুরো এলাকা নিরাপত্তার আওতায় নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কীভাবে এ দুর্ঘটনা ঘটল, তা তদন্ত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম খনিজ সম্পদসমৃদ্ধ দেশ ইন্দোনেশিয়ায় অনুমোদনহীন খনিতে কাজ করা দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা। বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অনেকে জীবিকার তাগিদে পরিত্যক্ত বা অবৈধ খনিতে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন। এসব খনিতে সাধারণত পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকে না। ফলে প্রায়ই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ি এলাকায় মাটি নরম হয়ে যায়। এতে ভূমিধসের ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। নিরাপত্তাহীন খনিতে কাজ করা শ্রমিকরা তখন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।

এর আগেও ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে একই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালে সুলাওয়েসি দ্বীপে একটি অবৈধ খনিতে ভূমিধসে বহু শ্রমিক নিহত হন। এছাড়া গত বছর পশ্চিম জাভার একটি চুনাপাথরের খনিতেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ওয়ালহি’। সংগঠনটির তথ্যমতে, ২০১২ সাল থেকে শুধু পশ্চিম সুমাত্রাতেই অবৈধ খনিতে দুর্ঘটনায় অন্তত ৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানিয়েছে, সিজুঞ্জুংয়ের সাম্প্রতিক দুর্ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে যে অবৈধ ও পরিবেশবিধ্বংসী খনন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হচ্ছে কর্তৃপক্ষ। তারা অবৈধ খনি বন্ধ এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন বলছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি অবৈধ খনিগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে নিহত শ্রমিকদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।


এ সম্পর্কিত আরো খবর