ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান

ইরান ইস্যুতে নতুন সমঝোতার ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প


  • আপলোড সময় : শুক্রবার ১৫ মে, ২০২৬ সময় : ৬:৪৭ পিএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের সঙ্গে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ইরান ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে এবং উভয় নেতা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার বিষয়ে একমত হয়েছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

শুক্রবার (১৫ মে) যুক্তরাষ্ট্র-চীন চলমান আলোচনার দ্বিতীয় দিনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ইরান, তাইওয়ান, বাণিজ্য ও বৈশ্বিক নিরাপত্তাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে।

ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার বিষয়েও চীন ও যুক্তরাষ্ট্র একমত হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই প্রণালির নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে উভয় পক্ষ একই অবস্থানে রয়েছে।

চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনাকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, “আমরা এমন অনেক সমস্যার সমাধান করেছি, যা অন্য কেউ হলে হয়তো করতে পারত না।” তবে যুক্তরাষ্ট্র-চীন শীর্ষ বৈঠকের আনুষ্ঠানিক চুক্তি বা সমঝোতার বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে ট্রাম্পের বক্তব্যে এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি যে, চীন ইরানের ওপর সরাসরি চাপ প্রয়োগ করবে। কারণ বেইজিং দীর্ঘদিন ধরেই ইরানি তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা হিসেবে পরিচিত। বিশ্লেষকদের মতে, এই সম্পর্কের কারণে ইরান প্রশ্নে চীনের অবস্থান সবসময়ই কৌশলগত।

আলোচনায় ইরান যুদ্ধের প্রসঙ্গও উঠে আসে বলে জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, এই সংঘাত শুরু হওয়াই উচিত ছিল না এবং যুদ্ধ বন্ধে আন্তর্জাতিকভাবে উদ্যোগ প্রয়োজন। যদিও এ বিষয়ে শি জিন পিং প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আলাদাভাবে এক বিবৃতিতে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, “এই সংঘাত কখনোই হওয়া উচিত ছিল না, ফলে এটি দীর্ঘায়িত হওয়ারও কোনো কারণ নেই।”

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরান কার্যত অধিকাংশ জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এর ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয় এবং বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে ইরান ইস্যুতে সমঝোতা তৈরি হলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিরসনে নতুন কূটনৈতিক পথ তৈরি হতে পারে। তবে বাস্তবে এই অবস্থান কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতির ওপর।

সূত্র: রয়টার্স


এ সম্পর্কিত আরো খবর