জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহিদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক উপাচার্য (ভিসি) হাসিবুর রশিদকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রোববার (১৭ মে) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন।
ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তিনি সাজা পরোয়ানা মূলে হাসিবুর রশিদকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন জানান। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে, গত ৯ এপ্রিল শহিদ আবু সাঈদ হত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন ট্রাইব্যুনাল-২। ওই রায়ে বেরোবির সাবেক ভিসি হাসিবুর রশিদকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানা যায়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১৬ মে) রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সলিমুল্লাহ রোড এলাকায় হাসিবুর রশিদের অবস্থান শনাক্ত করেন স্থানীয়রা। পরে তাকে আটক রেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। রোববার তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বিশ্ববিদ্যালয়টির ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। তার মৃত্যুর ঘটনা সারাদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। পরে ছাত্র-জনতার আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে দেশব্যাপী গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
আবু সাঈদের মৃত্যু দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, আন্দোলন দমনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ এবং নিরীহ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার কারণে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে এ ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়।
ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়, আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। সেই প্রেক্ষিতে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ঘোষণা করা হয়। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ রায় ভবিষ্যতে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও সহিংসতার ঘটনায় দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।