চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর এলাকায় এক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আনসার ভিডিপি কমান্ডারের বাড়িতে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানানোয় এক ভাড়াটিয়াকে হুমকি-ধমকি দেওয়া এবং তার বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
অভিযোগকারী ভাড়াটিয়া সোনিয়া খাতুন জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই বাড়িতে অসামাজিক ও অনৈতিক কার্যকলাপ চলে আসছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর থেকেই তিনি নানা ধরনের ভয়ভীতি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেন।
তিনি বলেন, “বাড়ির পরিবেশ ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে কথা বলার পর আমাকে চুপ থাকতে চাপ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে আমার বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা জিডি করা হয়েছে। এরপর থেকে আমি মানসিক চাপ ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।”
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বাড়িটিতে রাতের বেলায় বিভিন্ন সন্দেহজনক লোকজনের আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়। তাদের দাবি, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এলাকাবাসীর মধ্যে বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে বলেও তারা জানান।
তবে অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন বাড়ির মালিক বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈমুর রহমান। তিনি বলেন, “আমার বাড়িতে কোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড হয় না। ব্যক্তিগত বিরোধ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আমাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, কিছু ব্যক্তি ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে তার সম্মান ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছেন। অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে গোমস্তাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুরে আলম জানান, ঘটনাটি তাদের নজরে এসেছে এবং এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
ওসি নুরে আলম বলেন, “অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কেউ যদি হয়রানির শিকার হয়ে থাকেন, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।”
এদিকে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের একটি অংশ দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অন্যদিকে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে অপপ্রচারের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সামাজিকভাবে সংবেদনশীল এ ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকার দিকেও নজর রাখছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। তাই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি উঠেছে।