ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুরের সদরপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে অমানবিক নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার মামলায় স্বামী নুরজামাল মিয়াকে ১২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।
বুধবার (১৪ মে) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম রাব্বানী রতন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, সদরপুর উপজেলার টেউটাখালী গ্রামের বাসিন্দা নুরজামাল মিয়ার সঙ্গে প্রায় ৮ বছর আগে একই এলাকার মুর্শিদা বেগমের দ্বিতীয় বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই স্বামী নুরজামাল বিভিন্ন অজুহাতে স্ত্রীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, নুরজামাল মাদকাসক্ত ও উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিলেন। সংসার চালানোর পাশাপাশি তিনি স্ত্রীর বাবার বাড়ি থেকে একাধিকবার টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করতেন। এ সময় ভুক্তভোগীর পরিবার থেকে কয়েক দফায় প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা দেওয়া হলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।
পরবর্তীতে নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকলে ভুক্তভোগী মুর্শিদা বেগম আদালতের আশ্রয় নেন এবং নুরজামাল মিয়ার বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ বিভিন্ন সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম রাব্বানী রতন বলেন, যৌতুকের দাবিতে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আদালতের এ রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এ দণ্ড প্রদান করেছেন।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের রায় সমাজে নারীর প্রতি সহিংসতা ও যৌতুক নির্ভর নির্যাতন কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে আরও উৎসাহিত হবেন।
রায় ঘোষণার পর স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ কেউ বলেন, এ ধরনের কঠোর রায় সমাজে ইতিবাচক বার্তা দেবে এবং নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়াবে।
আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।