সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
নারী ও যুব নেতৃত্বের অংশগ্রহণে জলবায়ু সহনশীলতা, অভিযোজন, সুরক্ষা ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন বিষয়ক একটি গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল ১০টায় উপজেলা ডিজিটাল হলরুমে এ সভার আয়োজন করা হয়।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড এনভারমেন্টাল অ্যাকশন ডেভেলপমেন্ট (হেড)’–এর উদ্যোগে এবং ‘ক্লাইমেট জাস্টিস রেজিলিয়েন্স ফান্ড’ ও ‘সম্প্রীতি এইড ফাউন্ডেশন’-এর সহযোগিতায় এই রাউন্ড টেবিল সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সুশীলদের সহকারী পরিচালক জিএম মনিরুজ্জামান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার অর্ণব দত্ত। এছাড়া বক্তব্য রাখেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নাজমুন নাহার, শহর সমাজসেবা অফিসার মোর্শেদুল হক, সাতক্ষীরা পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র শফি-উদ-দৌলা সাগর, স্বদেশের নির্বাহী পরিচালক মাধব দত্ত, ক্রিসেন্ট-এর নির্বাহী পরিচালক আবু জাফর সিদ্দিকী, সিনিয়র সাংবাদিক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন, সুন্দরবন ফাউন্ডেশন-এর পরিচালক শেখ আফজাল হোসেন, প্রোভা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক কুমকুম খাতুন এবং সাংবাদিক আসাদুজ্জামান সরদার।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় যুব প্রতিনিধিরা উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট বিভিন্ন সমস্যা ও সংকটের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন। এ সময় বক্তব্য দেন অলিভিয়া লাওড়া, রাবেয়া খাতুন, শিহাব সিদ্দিকী, আদ্রিকা সাবা খানম এবং মোহাইমিন হোসেন।
তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, জলাবদ্ধতা ও নিরাপদ পানির সংকট দিন দিন তীব্র হচ্ছে। এসব সমস্যার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে নারী ও শিশুদের ওপর। তাই জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় নারী ও যুব সমাজকে সম্পৃক্ত করে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রাম অফিসার সোনিয়া পারভিন। তিনি তার উপস্থাপনায় জলবায়ু সহনশীলতা অর্জনে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ, জেন্ডার সংবেদনশীল পরিকল্পনা এবং টেকসই অভিযোজন কৌশলের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রোগ্রাম সমন্বয়কারী রেহেনা পারভীন। তিনি বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের বাস্তবতা বিবেচনায় নারী ও যুব নেতৃত্বকে সামনে এনে একটি কার্যকর সুরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন।
বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়। স্থানীয় প্রশাসন, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, যুব সমাজ ও নারীদের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই টেকসই সমাধান সম্ভব।
তারা আরও বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় জেন্ডার সংবেদনশীল কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা ।