অনলাইন রিপোর্টার
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত করে কর্মকর্তাদের সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাকে ‘সিরিয়াস আদালত অবমাননা’ বলে মন্তব্য করেছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুহাম্মদ শিশির মনির। তিনি জানিয়েছেন, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করা হবে। বুধবার (২০ মে) সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স ভবনের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শিশির মনির।
তিনি বলেন, “সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় গঠন করা হয়েছিল। বিষয়টি এখনও আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এমন অবস্থায় সচিবালয় বিলুপ্ত করা অত্যন্ত গুরুতর আদালত অবমাননার শামিল।” শিশির মনির আরও বলেন, “আমরা আগামীকাল সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করব।”
এর আগে মঙ্গলবার (১৯ মে) সরকার সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত ঘোষণা করে। একই সঙ্গে সচিবালয়ের সিনিয়র সচিবসহ ১৫ জন কর্মকর্তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে ফেরত নেওয়া হয়। সরকার জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন মন্ত্রণালয়-এর আইন ও বিচার বিভাগ।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ অনুযায়ী বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের সংশ্লিষ্ট সদস্যদের পরবর্তী উপযুক্ত পদে পদায়নের জন্য পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে কর্মকর্তাদের নাম, বিলুপ্ত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ে তাদের দায়িত্ব এবং নতুন সংযুক্ত পদ উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের উদ্বোধন করা হয়। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ সুপ্রিম কোর্টের প্রশাসনিক ভবন-৪ এ সচিবালয়টির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
আইনজীবীদের একাংশ মনে করছেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সরাসরি সম্পৃক্ত ছিল। ফলে সচিবালয় বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত নতুন করে আইন অঙ্গনে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
এদিকে সচিবালয় বিলুপ্তির সিদ্ধান্তকে ঘিরে সুপ্রিম কোর্ট অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বিষয়টি আদালতে গড়ালে এ নিয়ে নতুন আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।