মাগুরার আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো কার্যকর হয়নি প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায়। বিচারিক আদালতে ফাঁসির আদেশ হলেও আইনি প্রক্রিয়ার গ্যাঁরাকলে চূড়ান্ত শাস্তি কার্যকর না হওয়ায় তীব্র হতাশ ও ক্ষুব্ধ আছিয়ার পরিবার। নিহত শিশুটির মা আয়েশা খাতুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, ‘মেয়েটা মারা গেছে অনেক আগেই, কিন্তু এখনো চোখের সামনে খুনির ফাঁসি দেখতে পারলাম না।’
গত বছরের এই নির্মম ঘটনায় তৎকালীন সময়ে পুরো দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও আলোড়ন তৈরি হয়েছিল। আছিয়াকে নির্যাতনের পর হত্যার ঘটনায় বিচারিক আদালত প্রধান আসামি হিটু শেখকে দ্রুততম সময়ে মৃত্যুদণ্ড দিলেও মামলাটি এখন উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগে এসে আটকে আছে। ফলে কবে নাগাদ এই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে এবং রায় কার্যকর করা সম্ভব হবে, তা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে নিহতের অসহায় পরিবারের।
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার জারিয়া গ্রামে একটি ছোট্ট টিনের ঘরে এখনো আছিয়ার নানা স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছেন তার মা। তিনি আক্ষেপ করে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ঘটনার পর অনেক বড় বড় মানুষ পাশে থাকার বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন আর কেউ আমাদের খোঁজ নেয় না। একটি গাভির দুধ বিক্রি করে কোনো রকমে এখন সংসার চালাতে হচ্ছে।’ আছিয়ার মা আয়েশা খাতুন আরও বলেন, ‘মেয়ের খুনি জেলে বসে ভালোই আছে, আর আমরা প্রতিদিন বুকভরা কষ্ট নিয়ে বেঁচে আছি। বিচার পেতে এত দেরি হলে মনে মনে ভয় হয়, শেষে যদি শেষ পর্যন্ত আসল বিচারই না পাই!’
২০২৫ সালের ৫ মার্চ মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার নিজ বোনের শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে নির্মমভাবে ধর্ষণ ও পাশবিক হত্যার শিকার হয় মাত্র আট বছর বয়সী শিশু আছিয়া। ঘটনার পর গুরুতর আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে শিশুটি। এই পৈশাচিক ঘটনার পর সারা দেশের মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। প্রশাসন ও নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে আছিয়ার পরিবারকে দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ কঠোর শাস্তির আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল। তবে ঘটনার পর এক বছর পার হয়ে গেলেও আইনি জটিলতায় মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি সম্ভব হয়নি।
এই বিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে দণ্ডিত আসামি হিটু শেখের করা আপিল আবেদনটি এখন উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই আপিল শুনানি শেষ করে রায় বহাল রেখে তা কার্যকরের আশা করছেন। অন্যদিকে দেশের নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, এমন স্পর্শকাতর ও আলোচিত মামলার বিচার দীর্ঘ সময় ঝুলে থাকলে সমাজে অপরাধীরা অপরাধ করতে আরও বেশি সাহস পায়। তারা আছিয়ার খুনি হিটু শেখের ফাঁসির রায় অবিলম্বে উচ্চ আদালতে নিষ্পত্তি করে দ্রুত কার্যকরের জোর দাবি জানিয়েছেন।