চাঁদপুর প্রতিনিধি
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে যাত্রীবাহী ‘বোগদাদ’ ও ‘আইদি’ পরিবহনের শ্রমিকদের ওপর অতর্কিত হামলা ও বাস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এর প্রতিবাদে এবং জানমালের নিরাপত্তার দাবিতে কুমিল্লা-চাঁদপুর রুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন পরিবহন শ্রমিকরা। বুধবার (২০ মে) রাতে হাজীগঞ্জ পৌরসভার বলাখাল বাজার এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। হঠাৎ করে কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল থেকে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দুই জেলার সাধারণ যাত্রীরা। গন্তব্যে পৌঁছাতে তাদের অতিরিক্ত অর্থ ও অতিরিক্ত সময় ব্যয় করে সিএনজি বা বিকল্প যানবাহনে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
পরিবহন শ্রমিকদের দাবি, অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তদের অতর্কিত হামলায় তাদের অন্তত ১৫টি বাস ভাঙচুরের শিকার হয়েছে এবং প্রায় ২০ জন শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন। তবে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, আহত অবস্থায় ১২ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন, যাদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় পাঁচজনকে ভর্তি করা হয়েছে। আহত শ্রমিকদের মধ্যে রয়েছেন— মো. হান্নান (২৮), আকরাম হোসেন (৩০), আমজাদ হোসেন (৩০), ইমান হোসেন (২৩), নাহিদ (২০), রেজাউল করিম (৩৬), আবুল হোসেন (৪১), হৃদয় হোসেন (২৫), মো. সুমন (৪৫), আকাশ (২০), শাহআলম (২৬) ও রিদয় হোসেন (২৪)।
চিকিৎসাধীন শ্রমিকরা জানান, স্কুল মাঠে রাতে পার্কিং করে রাখা বাসগুলোতে থাকা শ্রমিকদের ওপর হঠাৎ অন্ধকারের মধ্যে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় শ্রমিকদের এলোপাতাড়ি মারধরের পাশাপাশি একের পর এক বাসের কাচ ভাঙচুর করা হয়। বোগদাদ পরিবহনের সুপারভাইজার ইউসুফ ও ওমর ফারুকসহ কয়েকজন শ্রমিক জানান, এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় সাধারণ পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান।
হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এবং অবিলম্বে শ্রমিকদের নিরাপত্তার দাবিতে দোষীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে বোগদাদ ও আইদি পরিবহনের সকল বাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার আলটিমেটাম দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। বলাখাল বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বেপারী জানান, অন্ধকারের মধ্যে হঠাৎ করে কে বা কারা এই হামলা চালিয়েছে তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। ঘটনাটি খুব দ্রুত ঘটে যাওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও হতবাক হয়েছেন।
হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মান্নান বলেন, হামলার খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত রয়েছে এবং নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বলাখাল বাজারসহ বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চলছে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।