সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 149
রেজাউল করিম ঝন্টু, সিরাজগঞ্জ:
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর অবর্ণনীয় কষ্টের অবসান হতে চলেছে উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের ভাটড়া শেখপাড়া গ্রামের নিঃস্ব ও অসহায় মাহতাব হোসেনের। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মূলধারার সংবাদপত্রগুলোতে তাঁর মানবেতর জীবনযাপনের খবর দেখে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান। তিনি নিজে সরাসরি ঢেউ টিন ও ঘর নির্মাণের যাবতীয় সামগ্রী নিয়ে হাজির হয়েছেন অসহায় মাহতাব হোসেনের বাড়ির আঙিনায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বৃদ্ধ মাহতাব হোসেন একটি জরাজীর্ণ ও ভাঙা ঘরে তীব্র রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে অত্যন্ত কষ্টকর ও ঝুঁকিপূর্ণ জীবনযাপন করছিলেন। এই অমানুষিক বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে তা তাৎক্ষণিকভাবে তাড়াশের ইউএনও নুসরাত জাহান এর দৃষ্টিগোচর হয়। তিনি সংবাদটি দেখার পর বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নেন এবং কালবিলম্ব না করে সরকারি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ তহবিল থেকে জরুরি সহায়তার ঢেউ টিন ও নগদ অর্থ নিয়ে মাহতাব হোসেনের কাছে ছুটে যান। ঘটনাস্থলে সশরীরে পৌঁছে ইউএনও নুসরাত জাহান বৃদ্ধ মাহতাব হোসেনের হাতে নতুন ঘর মেরামতের জন্য টিন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ তুলে দেন এবং দ্রুত ঘরটি বসবাসের উপযোগী করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
হঠাৎ দুপুরের দিকে উপজেলা প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্মকর্তাকে বিপুল পরিমাণ নতুন টিন নিয়ে নিজের ভাঙা বাড়ির আঙিনায় হাজির হতে দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি বৃদ্ধ মাহতাব হোসেন। তিনি অশ্রুসিক্ত চোখে ও গদগদ কণ্ঠে সাংবাদিকদের বলেন, "আমার এই ঘর না থাকার কষ্টের খবর সাংবাদিক ভাইয়েরা পত্রিকায় লেখার পরই আজ সরকারি বড় অফিসার নিজে আমার ভাঙা বাড়িতে টিন নিয়ে এসেছেন। আমি কোনোদিন স্বপ্নেও ভাবিনি এত দ্রুত আমার এই কষ্টের দিন শেষ হবে। যাঁরা আমার খোঁজ নিয়েছেন এবং যিনি নিজে এসে এই ব্যবস্থা করলেন, আল্লাহ উনাদের অনেক বড় ও ভালো করুক।"
এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "গণমাধ্যমে এই অসহায় মানুষের সংবাদটি দেখার পর আমি আর ঘরে বসে থাকতে পারিনি। বর্তমান সমাজে একজন মানুষ এমন জরাজীর্ণ ও মানবেতর অবস্থায় বসবাস করছেন, তা সত্যিই অত্যন্ত কষ্টদায়ক। মূলত সাংবাদিকদের এই সংবাদটি আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা তাঁর জন্য আপাতত জরুরি ভিত্তিতে উন্নত মানের ঢেউ টিন ও ঘর মেরামতের প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করেছি। ভবিষ্যতে সরকারি আবাসন প্রকল্পের আওতায় তাঁকে একটি স্থায়ী পাকা ঘর দেওয়ার বিষয়টিও আমাদের গভীর বিবেচনায় রয়েছে।"
টিন হস্তান্তরের এই মানবিক মুহূর্তে স্থানীয় নওগাঁ ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের এমন নজিরবিহীন দ্রুত, স্বতঃস্ফূর্ত ও মানবিক পদক্ষেপকে আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার সর্বস্তরের সচেতন ও সাধারণ মানুষ।
আকাশজমিন / আরআর