আজহারুল হক, ময়মনসিংহ / : 115
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানা এলাকায় এক চরম নৃশংস ও লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার মশাখালী ইউনিয়নের দড়ি চারবাড়িয়া গ্রামের শাহাকান্দা ভিটা এলাকায় এক ব্যক্তির মস্তকবিহীন শরীর গাছে বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। আর মরদেহের ঠিক পাশেই রক্তাক্ত মাটিতে পড়ে ছিল দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া মাথাটি। নিহত ব্যক্তির পরনে কেবল ফুলপ্যান্ট ছিল, তবে গায়ে কোনো জামা ছিল না এবং তার বুকে ধারালো অস্ত্রের গভীর কোপের চিহ্ন মিলেছে। এই বর্বরোচিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ৯টা নাগাদ আনুমানিক ৪৩ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির মস্তকবিহীন দেহ গাছের সাথে নিষ্ঠুরভাবে বাঁধা অবস্থায় এবং পাশেই মাটিতে বিচ্ছিন্ন মাথা পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা ভয়ে শিউরে ওঠেন। মুহূর্তের মধ্যে এই খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে শত শত উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। পরে এলাকাবাসী তাৎক্ষণিকভাবে পাগলা থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। সকাল ১০টা নাগাদ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে খন্ডিত মাথা ও দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
হত্যাকাণ্ডটি এতটাই নিখুঁত ও নৃশংসভাবে করা হয়েছে যে প্রাথমিকভাবে নিহতের পরিচয় জানা অসম্ভব ছিল। পরে নিহত ব্যক্তির পরিচয় দ্রুত শনাক্ত করতে জেলা পুলিশের পাশাপাশি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর ফরেনসিক টিম কাজ শুরু করে। প্রযুক্তির সহায়তায় আধুনিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আঙুলের ছাপ পরীক্ষার মাধ্যমে অবশেষে নিহতের সুনির্দিষ্ট পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হয় ক্রাইমসিন টিম। আঙুলের ছাপে জানা যায়, নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া ওই ব্যক্তির নাম মো. কাওছার আলম। সে সুদূর দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার দেবীপুর গ্রামের মো. জামেদ আলীর ছেলে। ময়মনসিংহের প্রত্যন্ত গ্রামে এসে কেন এবং কীভাবে সে হত্যাকাণ্ডের শিকার হলো, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থল ও লাশের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে জোরালো ধারণা করছেন, কাওছার আলমকে অন্য কোনো স্থান থেকে সুপরিকল্পিতভাবে অপহরণ করে আনা হয়েছিল। এরপর গভীর রাতে নির্জন শাহাকান্দা ভিটা এলাকায় এনে গাছের সঙ্গে শক্ত করে বেঁধে প্রথমে বুকে কোপ এবং পরবর্তীতে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় গলা কেটে হত্যা নিশ্চিত করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ধরন দেখে মনে হচ্ছে এর পেছনে কোনো পেশাদার খুনি চক্র বা পূর্বশত্রুতার গভীর যোগসূত্র রয়েছে।
পাগলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, "মধ্যবয়সী ওই ব্যক্তির মস্তকবিহীন শরীর অমানুষিকভাবে গাছে বেঁধে রাখা ছিল আর পাশেই মাটিতে পড়েছিল তার বিচ্ছিন্ন মাথা। খবর পেয়ে আমাদের টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে ক্রাইমসিন, সিআইডি ও পিবিআই যৌথভাবে আলামত সংগ্রহ ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়ে লাশের পরিচয় শনাক্ত করেছে।" তিনি আরও বলেন, "কারা, কী কারণে এবং কোন উদ্দেশ্যে এমন জঘন্য ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা উদঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম ইতিমধ্যে মাঠে নেমেছে। খুব দ্রুতই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।" পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে এবং এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।