ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ইয়েমেনে ফের তীব্র সংঘাত, ১২৯টি হামলার দাবি হুথিদের

টেন্ডার না পেয়ে দুর্নীতির অভিযোগ, বরগুনা এলজিইডির তদন্তে মিলছে ভিন্ন চিত্র


  • আপলোড সময় : শনিবার ২৩ মে, ২০২৬ সময় : ৩:০০ পিএম

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর বরগুনা কার্যালয় থেকে প্রায় ৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘বরগুনা জেলার গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো প্রকল্প’-এর আওতায় ১৪টি সড়ক নির্মাণ কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়। ওটিএম (ওপেন টেন্ডারিং মেথড) পদ্ধতিতে আহ্বান করা এ টেন্ডারে বরগুনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার শতাধিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। যাচাই-বাছাই শেষে সরকারি ক্রয় বিধিমালা-২০২৫ ও ইজিপি পদ্ধতি অনুসরণ করে সর্বনিম্ন দরদাতাদের কার্যাদেশ দেওয়া হয়।

এলজিইডি সূত্র জানায়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের এ প্রকল্পের আওতায় বরগুনার বিভিন্ন উপজেলায় গুরুত্বপূর্ণ সড়ক উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনলাইনভিত্তিক ইজিপি সিস্টেমে দরপত্র জমা ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। তবে টেন্ডার কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরই আমতলী ও তালতলী অংশের প্রায় ২৭ কোটি টাকা মূল্যের চারটি দরপত্রের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন তালতলীর বাসিন্দা ওমর আব্দুল্লাহ শাহীন। তিনি প্রয়াত বিএনপি মহাসচিব খ্যান্ডকার দেলোয়ার হোসেনের সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) এবং বরগুনা জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য বলে পরিচয় দিয়ে থাকেন। একই সঙ্গে তিনি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবেও নিজের পরিচয় দেন।

যে সকল টেন্ডার কার্যক্রম নিয়ে অভিযোগ ওঠে, সেই টেন্ডারগুলি মূল্যায়ন ও কার্যাদেশ প্রদানের জন্য বরগুনা জেলা কার্যালয় থেকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকিউরমেন্ট বিভাগে প্রেরণ করা হয়। সেখানেও যাচাই-বাছাই শেষে কোনো দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় পুনরায় বরগুনা কার্যালয়কে স্ব স্ব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে কার্যাদেশ দেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, আমতলী ও তালতলী উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের চারটি কাজে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। ওমর আব্দুল্লাহ শাহীন অভিযোগ করেন, এলজিইডি বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান খান, জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রকৌশলী শ্যামল কুমার গাইন ও প্রকল্পের সহকারী প্রকৌশলী রাজিব শাহ তাঁদের নিকটাত্মীয়দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, কাজ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এম এ লুৎফুল কবির ট্রেডার্স, এমএস নুর কনস্ট্রাকশন, লেলিন-দীপ (জয়েন্ট ভেঞ্চার) ও নিশিত বসু ট্রেডার্সের সঙ্গে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

তবে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, অভিযোগকারী ওমর আব্দুল্লাহ শাহীন নিজেও এই টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিলেন। তিনি তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন ‘শাহরিস ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড’-কে কাজ দেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে তদবির করেন বলেও প্রমাণ পাওয়া গেছে। ওমর আব্দুল্লাহ শাহীনের মুঠোফোন থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান খানকে করা তদবিরের কিছু স্ক্রিনশট এই প্রতিবেদকের হাতেও এসেছে। ইজিপি সিস্টেম ও সরকারি ক্রয় নীতিমালা অনুযায়ী তাঁর প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ও কারিগরি সক্ষমতা প্রয়োজনীয় মানদণ্ডে উপযুক্ত বিবেচিত না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি কার্যাদেশ পায়নি। কাজ না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি এই অভিযোগ তুলছেন বলে দাবি এলজিইডির।

এ বিষয়ে জানতে ওমর আব্দুল্লাহ শাহীনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “১৭ বছর আমাদের দলীয় নেতাকর্মীরা মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন। তাদের মামলার খরচ ও তারা যাতে বেনিফিটেড হতে পারে, সেই কারণে আমি নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে কাজগুলো চেয়েছি।”

অভিযোগ পাওয়ার পর এলজিইডির বরিশাল বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শেখ মোহা. নুরুল ইসলামকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তদন্তে অভিযোগের স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ না পেলেও বরগুনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলীকে বদলি করা হয়েছে। এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


এ সম্পর্কিত আরো খবর