ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান

চীনে কয়লা খনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: ৯০ জন নিহত, নিখোঁজ ৯


  • আপলোড সময় : শনিবার ২৩ মে, ২০২৬ সময় : ৩:৩২ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

চীনের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ শ্যাংজির লিউশেনিউ কয়লা খনিতে এক ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় কমপক্ষে ৯০ জন খনিশ্রমিক নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এখনও নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৯ জন শ্রমিক। বিস্ফোরণের তীব্রতায় আহত হয়েছেন শতাধিক শ্রমিক। গত শুক্রবার (২২ মে ২০২৬) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ২৯ মিনিটে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে।

চায়না রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, বিস্ফোরণের সময় ওই গভীর খনিটির ভেতরে মোট ২৪৭ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যম সিনহুয়ার প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণকে গত ১৭ বছরের মধ্যে দেশটির ইতিহাসে ‘সর্ববৃহৎ খনি দুর্ঘটনা’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিস্ফোরণের কিছু সময় পরেই খনি এলাকায় শুরু হয় বিশাল উদ্ধার তৎপরতা। বর্তমানে মোট ৩৫৪ জন দক্ষ উদ্ধারকর্মীর সমন্বয়ে গঠিত একাধিক দল খনির ভেতরে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে। আজ শনিবার (২৩ মে) স্থানীয় সময় ভোর রাত থেকে খনির ভেতর থেকে একে একে জীবিত ও মৃত শ্রমিকদের বের করে আনতে শুরু করেন উদ্ধারকারীরা। এখন পর্যন্ত ৯০ জনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। খনির গভীরে আটকে থাকা বাকি ৯ জনের সন্ধান পেতে বিষাক্ত গ্যাস ও অন্ধকারের মাঝেই এখনও নিরলস ও সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। উদ্ধারকারী দল জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে; কারণ জীবিত অবস্থায় যাদের উদ্ধার করা হয়েছে— তাদের মধ্যে বেশ কয়েক জনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন সিসিটিভি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, খনিতে শক্তিশালী বিস্ফোরণের পরপরই সুড়ঙ্গের ভেতরে অত্যন্ত ব্যাপকমাত্রায় বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসের নিঃসরণ শুরু হয়। খনির ভেতরে বাতাস চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং দ্রুত বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ায় মৃতের সংখ্যা এত বেশি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই ভয়াবহ খনি দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তাদের দ্রুত আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং উদ্ধারকৃত জীবিতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে খনিটিতে অবহেলাজনিত কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ওই খনিটির নিরাপত্তার দায়িত্বে যে প্রধান কর্মকর্তা ছিলেন, তাকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ভৌগোলিক তথ্য অনুযায়ী, শ্যাংজি চীনের সবচেয়ে দারিদ্র্যপীড়িত প্রদেশগুলোর মধ্যে একটি হলেও এটি দেশটির ‘কয়লার রাজধানী’ নামে বিশ্বব্যাপী পরিচিত। সাম্প্রতিক দশকগুলোতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে চীনের খনিশ্রমিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও এখনও সেখানে খনি দুর্ঘটনা বিরল কোনো ব্যাপার নয়। দুর্বল অবকাঠামোর কারণে মাঝে মাঝেই চীনের কয়লা খনিগুলোতে এমন প্রাণহানি ঘটে। এর আগে ২০০৯ সালে চীনের উত্তরাঞ্চলীয় হেইলংজিয়াং প্রদেশের একটি খনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ১০৮ জন শ্রমিক নিহত হয়েছিলেন। সেই ভয়াবহ ঘটনাটি এখন পর্যন্ত ‘চীনের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় খনি দুর্ঘটনা’ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

আকাশজমিন / আরআর


এ সম্পর্কিত আরো খবর