কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক আবদুর রাজ্জাক সোহেলকে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টা মামলায় সাহাবুল শেখ (৩২) নামের এক অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় অপহরণের কাজে ব্যবহৃত ঢাকা মেট্রো গ-৩৯১৬৮৬ নম্বরের একটি প্রাইভেটকারও জব্দ করা হয়েছে।
আজ শনিবার (২৩ মে ২০২৬) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম রাকিব।
সদর দক্ষিণ থানা পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল শুক্রবার (২২ মে) রাতভর রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় চিরুনি অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত সাহাবুল শেখকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় অপরাধীদের ব্যবহৃত গাড়িটিও পুলিশ নিজেদের হেফাজতে নেয়।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ ঢাকায় যাওয়ার পথে পথিমধ্যে ভয়াবহ অপহরণের শিকার হন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক আবদুর রাজ্জাক সোহেল। অভিযোগ রয়েছে, অপহরণকারীরা চলন্ত গাড়িতে তাকে নির্মমভাবে হত্যাচেষ্টার পাশাপাশি অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তার কাছ থেকে নগদ এক লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পরদিন অর্থাৎ ৫ মার্চ ভুক্তভোগী শিক্ষক নিজে বাদী হয়ে সদর দক্ষিণ থানায় অজ্ঞাতনামা চারজনকে আসামি করে একটি অপহরণ ও ছিনতাই মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘদিন পর মামলার অগ্রগতি নিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষক আবদুর রাজ্জাক সোহেল বলেন, “ঘটনার এতদিন পর পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করলেও এই বর্বরোচিত ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী এবং জড়িত অন্য আসামিদের এখনও ধরা যায়নি। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা জরুরি। আমি প্রশাসনের কাছে এই ঘটনার সম্পূর্ণ ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।"
কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির এসআই টিটু কুমার নাথ গণমাধ্যমকে বলেন, "ভুক্তভোগী শিক্ষক আবদুর রাজ্জাক সোহেল একটি মামলা করেছিলেন। সেই মামলার সুনির্দিষ্ট তদন্ত ও তথ্য-প্রমাণের সাপেক্ষে সন্দেহজনকভাবে আমরা সাহাবুল শেখ নামের একজনকে আটক করেছি। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজই তাকে আদালতে চালান করা হবে। এই মামলার আসামি আরও কয়েকজন রয়েছে, তাদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।"
এ বিষয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, “শিক্ষক অপহরণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে গতকাল রাতে ঢাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে আজ সকালে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে দুপুরের দিকে তাকে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় আরও যারা নেপথ্যে জড়িত রয়েছে, তাদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত আছে।”