ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬,  ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

কুমিল্লায় জাতীয় কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদযাপিত


  • আপলোড সময় : শনিবার ২৩ মে, ২০২৬ সময় : ৭:৩১ পিএম

কুমিল্লা প্রতিনিধি :

বাংলা সাহিত্যের ধ্রুবতারা, সাম্য ও চেতনার অগ্রদূত এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ কুমিল্লায় অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ ও যথাযোগ্য মর্যাদায় বিভিন্ন কর্মসূচি উদযাপিত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সার্বিক আয়োজনে এবং কুমিল্লার বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে দিনব্যাপী ব্যাপক ও বর্ণাঢ্য কর্মসূচির মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হয়েছে বিদ্রোহী কবিকে। নজরুল-স্মৃতিবিজড়িত কুমিল্লা নগরীতে কবির এই জন্মজয়ন্তীকে কেন্দ্র করে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে এক উৎসবমুখর ও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

দিবসটি ঘিরে আজ ভোরের আলো ফুটতেই বর্ণিল সাজে সেজে ওঠে পুরো কুমিল্লা। সকালের শুরুতেই কুমিল্লা টাউন হল প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজন করা হয়। র্যালিটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এরপর জেলা প্রশাসন ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বগণ কবির নজরুল স্মৃতিস্তম্ভে গভীর শ্রদ্ধায় পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে কবিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে এক সংক্ষিপ্ত নীরবতা পালন করা হয়। পরবর্তীতে মূল আলোচনা সভা, কবিতা আবৃত্তি, নজরুল সঙ্গীত ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান মালার আয়োজন করা হয়, যেখানে বিদ্রোহী কবির অসামান্য সৃষ্টির বৈচিত্র্যকে নতুন করে তুলে ধরা হয়।

মূল আলোচনা পর্বে আমন্ত্রিত বিশিষ্টজন ও নজরুল গবেষকেরা কবির বর্ণাঢ্য জীবন, সমাজ সংস্কার, সাহিত্যকর্ম এবং সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বক্তারা বলেন, কুমিল্লার সাথে জাতীয় কবির এক অবিচ্ছেদ্য ও গভীর আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। এই কুমিল্লাতেই কবি তাঁর যৌবনের বহু সোনালী সময় কাটিয়েছেন, রচনা করেছেন প্রেম ও দ্রোহের বহু কালজয়ী কবিতা ও গান। তাঁর সেই বৈপ্লবিক সৃষ্টি ও সাম্যবাদের প্রাসঙ্গিকতা আজকের সমাজেও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

আলোচনা সভা শেষে শুরু হয় স্থানীয় ও আমন্ত্রিত শিল্পীদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। নজরুলের অমর ও কালজয়ী সব সঙ্গীত, উদ্দীপনামূলক দেশাত্মবোধক গান ও নজরুলের বিখ্যাত কবিতার চমৎকার আবৃত্তি পুরো অনুষ্ঠানস্থলকে মন্ত্রমুগ্ধের মতো ধরে রাখে। কবির অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাণী ও বৈচিত্র্যময় সাহিত্যকে সুরের মূর্ছনায় ফুটিয়ে তোলেন পরিবেশনকারী শিল্পীরা।

অনুষ্ঠানের প্রধান আয়োজক ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানের অতি আধুনিক ও যান্ত্রিক যুগে নতুন প্রজন্মের কাছে নজরুলের কালজয়ী আদর্শ, প্রখর মানবিকতা, দেশপ্রেম ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে সঠিকভাবে পৌঁছে দিতেই প্রতি বছরের ন্যায় এবারও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বিশাল আয়োজন হাতে নেওয়া হয়েছে। এই বর্ণাঢ্য ও তাৎপর্যপূর্ণ অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, নজরুলপ্রেমী সাধারণ মানুষ এবং স্কুল-কলেজের সর্বস্তরের শিক্ষার্থীদের উপচে পড়া অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর