ঘটনার বিবরণে জানা যায়, পাকিস্তানের কোয়েটার চমন পট্ট এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় একটি সিগন্যাল অতিক্রমকালে বিস্ফোরক ভর্তি একটি দ্রুতগামী গাড়ি সৈন্যবাহী ট্রেনটির একটি বগিতে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ট্রেনটিতে পেশোয়ারগামী সৈন্য এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা ছিলেন। তারা আসন্ন মঙ্গলবার ঈদুল আজহার ছুটি উদযাপনের উদ্দেশ্যে বাড়ি ফিরছিলেন।
বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, ট্রেনের দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে উল্টে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে তাতে আগুন ধরে যায়। হামলার পরপরই দুর্ঘটনাস্থল থেকে ঘন কালো ধোঁয়া আকাশে উড়তে দেখা যায়। বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত বগি থেকে আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এই উদ্ধারকাজ পরিচালনার সময় সশস্ত্র নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকা কঠোর পাহারায় রেখেছিল।
প্রাথমিক প্রাপ্ত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বিস্ফোরণস্থল ও ট্রেনের বগিগুলোর অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। অগ্নিকাণ্ডের ফলে অনেক সৈন্য আটকে পড়েছিলেন। স্থানীয় প্রশাসন ও সামরিক বাহিনীর উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই হামলার পর বেলুচিস্তানজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কে বা কারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত তা নিয়ে এখনো কোনো গোষ্ঠী দায় স্বীকার করেনি। তবে পাকিস্তানের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ঈদের ছুটির ঠিক আগ মুহূর্তে এই নৃশংস হামলায় পাকিস্তানে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার পর থেকে কোয়েটা ও এর আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।